নিউজ ডেস্ক: চোখে বিশেষ কালো চশমা পরতেই উধাও কলকাতার প্রেক্ষাগৃহ, চোখের সামনে ভাসছে সুবিশাল রকেট। নভশ্চররা যেন আপনার পাশের চেয়ারেই বসে আছেন, আর হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে মঙ্গল গ্রহের লাল মাটি। সায়েন্স সিটিতে আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে এমন এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার প্রদর্শন। ফুলডোম থ্রি ডি ডিজিটাল ফিল্ম ‘ওয়ান স্টেপ বিয়ন্ড: আ জার্নি টু মার্স’-এর মাধ্যমে আট থেকে আশি, সকলের জন্যই মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হলো।
থ্রিডি ফুলডোম-এর জাদুকরী অনুভব: সাধারণ সিনেমা হলের মতো নয়, সায়েন্স সিটির এই নতুন থ্রিডি ফুলডোম স্ক্রিন দর্শকের মাথার উপর থেকে পুরো দৃষ্টিসীমা জুড়ে থাকে। ২৫ মিনিটের এই ফিল্মে চাঁদের পিঠে মানুষের প্রথম পা রাখা থেকে শুরু করে আগামীর প্রযুক্তিতে মঙ্গলের বুকে এগিয়ে যাওয়ার রোমহর্ষক দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এছাড়া মহাকাশ স্টেশনে নভশ্চরদের জীবনযাপন এবং চাঁদকে ‘স্টপওভার’ বা জ্বালানি নেওয়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গলে পৌঁছানোর পরিকল্পনাও এই ভিজুয়্যালে স্থান পেয়েছে। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি— তিনটি ভাষাতেই এই ফিল্ম প্রদর্শিত হবে।
নাসা বিজ্ঞানীর চোখে মঙ্গলের ভবিষ্যৎ: বৃহস্পতিবার বিকেলে সায়েন্স সিটিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসার (NASA) জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. গৌতম চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলে বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, “এখনও সেরকম পরিস্থিতি নেই। জ্বালানি কম লাগে বলে চাঁদকে ব্যবহার করে মঙ্গলে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তবে, পৃথিবীতে মাছের ঝোল-ভাত খেয়ে থাকার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।” অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অব সায়েন্স মিউজিয়াম (NCSM)-এর ডিরেক্টর জেনারেল অরিজিত্ দত্ত চৌধুরী, সায়েন্স সিটির ডিরেক্টর প্রমোদ গ্রোভার প্রমুখ। এনসিএসএম-এর ডিরেক্টর জেনারেল জানান, এখানকার উন্নত প্রযুক্তিতে সিনেমা দেখে দর্শকদের মনে হবে, তাঁরা যেন নিজেরাই মহাকাশে পৌঁছে গিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সময়সূচি: গত বছর চেক রিপাবলিকের বার্নো ফুলডোম ফেস্টিভ্যালে প্রথমবার প্রদর্শিত হওয়ার পর থেকেই এই ফিল্ম বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এবার কলকাতার দর্শকদের জন্য সায়েন্স সিটিতে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই বিশেষ প্রদর্শনী চলবে। মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এটি এক সুবর্ণ সুযোগ বলে মনে করছেন বিজ্ঞান নগরী কর্তৃপক্ষ।