নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডে আসার প্রাক্কালে চরম উত্তেজনা ছড়াল উত্তর কলকাতায়। শনিবার দুপুরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গিরিশ পার্ক এলাকা। খাস মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি থেকে শুরু করে সভার বাসে ভাঙচুর— বাদ গেল না কিছুই। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এলাকায় নামাতে হয়েছে র্যাফ (RAF)। ইটের ঘায়ে জখম হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি-ও।
এদিন দুপুরে বিজেপির একটি মিছিল গিরিশ পার্ক দিয়ে ব্রিগেডের অভিমুখে যাওয়ার সময় উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই বিজেপি কর্মীরা তাঁর বাড়ির অফিসের দরজা-জানলা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। জানলার কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রীর দাবি, “গুন্ডাদের নিয়ে ব্রিগেড করছে বিজেপি। এরা খুনি, যে ভাবে আক্রমণ করছে তাতে স্পষ্ট এরা খুনও করতে পারে।” এই ঘটনায় শশী পাঁজা নিজে এবং ১৯ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর জখম হয়েছেন বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি-ও। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে সভায় যাওয়ার সময় তৃণমূল কর্মীরা তাদের মিছিলে হামলা চালায়। ব্রিগেডের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয় এবং ছিঁড়ে ফেলা হয় দলীয় ফ্লেক্স। বিজেপি কর্মীদের দাবি, মন্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকেই প্রথম ইটবৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সংঘর্ষে বেশ কিছু বিজেপি কর্মীর চোখ-মুখে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে গেরুয়া শিবির থেকে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের সামনেই দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছন। রাস্তার উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইট-পাথরই বলে দিচ্ছিল গণ্ডগোলের ভয়াবহতা। আপাতত এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি থমথমে।