নিউজ ডেস্ক: আর্থিক অনটন আর ঘরভাড়া মেটাতে না পারার গ্লানি— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়েই কি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি? সোমবার ভরসন্ধ্যায় হরিদেবপুর থানা এলাকার দাসপাড়ার একটি ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের নাম বিকাশ দাস (৭২) ও বাসন্তী দাস (৬৩)। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে বাড়িওয়ালার পরিবারের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’বছর ধরে দাসপাড়ার ওই বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন প্রবীণ দম্পতি। বাসন্তীদেবী পেশায় আয়া ছিলেন এবং বিকাশবাবু জমি-বাড়ি কেনাবেচার দালালি করতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। যার জেরে গত ছয় মাসের বাড়ি ভাড়া বকেয়া পড়ে গিয়েছিল। পুলিশ যে সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করেছে, তাতে বিকাশবাবু স্পষ্ট লিখেছেন, বকেয়া ভাড়ার টাকার জন্য বাড়িওয়ালি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তাঁরা চরম পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার বীভৎসতা দেখে শিউরে উঠেছেন তদন্তকারীরাও। বাড়ির বারান্দার সিলিং ফ্যান থেকে শাড়ির ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিলেন বাসন্তীদেবী। ঠিক পাশের ঘরেই ওই একই শাড়ির ছেঁড়া অংশের ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছিলেন বৃদ্ধ বিকাশবাবু। খবর পেয়ে হরিদেবপুর থানার পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
লালবাজার সূত্রে খবর, সুইসাইড নোটে বাড়িওয়ালি বুলা পাল এবং পরিবারের সদস্য মৌসুমি মণ্ডল, গোপাল মণ্ডল ও লতিকা মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মৃতদের এক আত্মীয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার (Abetment to Suicide) মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তরা। অভাবের তাড়নায় এক বৃদ্ধ দম্পতির এমন করুণ পরিণতি হরিদেবপুরের বাসিন্দাদের মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে।