নিউজ ডেস্ক: আদালতের এজলাসে তখন টানটান উত্তেজনা। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এক যুবক, যাঁর বিরুদ্ধে বছরখানেক আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন এক তরুণী। কিন্তু সোমবার কলকাতার বিচারভবনে বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন। সিঁথিতে চওড়া সিঁদুর, পরনে বেনারসী আর হাতে শাঁখা-পলা পরে খোদ অভিযোগকারিণী তরুণীই বিচারককে জানিয়ে দিলেন, “উনি আমার স্বামী। আমরা সুখে সংসার করছি, ওঁর বিরুদ্ধে আমার আর কোনও অভিযোগ নেই।”
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে উত্তর কলকাতার বড়তলা থানার বাসিন্দা ওই তরুণী যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশের তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা পড়ে এবং মামলাটি বিচারের জন্য বিচারভবনে পাঠানো হয়। সোমবার ছিল চার্জ গঠনের শুনানি। কিন্তু সাক্ষ্য দিতে উঠে তরুণী ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে যুবককে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর সাফ কথা, “ভুল বোঝাবুঝির জেরে মামলা হয়েছিল। এখন আমরা বিবাহিত, আমার স্বামীকে মুক্তি দেওয়া হোক।”
তরুণীর প্রাথমিক সাক্ষ্য গ্রহণ এবং কেস ডায়েরির যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর বিচারক ওই যুবককে সসম্মানে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার পরেই নবদম্পতির চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে। এজলাস ছাড়ার আগে দুজনেই বিচারককে প্রণাম জানান। যুবকের আইনজীবী আশিসকুমার ঘোষ বলেন, “আদালতের রায়ে আমরা খুশি। তাঁরা নতুন করে জীবন শুরু করেছেন, এটাই বড় পাওনা।”
এই ঘটনা দেখতে এদিন বিচারভবনে রীতিমতো ভিড় জমে গিয়েছিল। সরকারি আইনজীবী জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, আইন অনুযায়ী চার্জ গঠন করে শুনানির আবেদন জানানো হয়েছিল, তবে অভিযোগকারিণী নিজেই বয়ান বদলে ফেলায় আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলা-মোকদ্দমা আর আইনি লড়াইয়ের তিক্ততা মুছে বেনারসী পরেই এদিন ‘শত্রু’ থেকে ‘স্বামী’কে মুক্ত করে ঘরে তুললেন তরুণী। -ছবি প্রতীকী