নিউজ ডেস্ক: সীমান্তের বেড়া ডিঙিয়ে ভারতে আসার খবর নতুন নয়, কিন্তু এবার উল্টো এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। উনিশ বছরের নব্যবিবাহিতা স্ত্রীকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে আদালতের কড়া নাড়লেন তেইশ বছরের ওপার বাংলার যুবক অরিজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, বিয়ের কেল্লা ফতে হতে না হতেই তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক এপারে নিয়ে এসে বন্দি করে রেখেছে তাঁর পরিবার।
অরিজিতের বয়ান অনুযায়ী, বাংলাদেশের নরসিংদী এলাকার মৌমি সাহার (১৯) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দুই বছরের প্রণয় ছিল। গত বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকার এক মন্দিরে হিন্দু শাস্ত্র মতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু বিয়ের মাস কাটতে না কাটতেই অক্টোবর মাসে মৌমির পরিবার তাঁকে কৌশলে সরিয়ে নেয় এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে এপারে নিয়ে আসে। অরিজিতের দাবি, মৌমিকে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহে মোড় আসে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। বিরাটির সেই ‘বন্দিশালা’ থেকেই সুযোগ বুঝে অরিজিৎকে হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লোকেশন পাঠান মৌমি। সেই সূত্র ধরেই গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় পৌঁছান অরিজিৎ। তাঁর অভিযোগ, বিরাটির সেই ঠিকানায় গিয়ে স্ত্রীকে যখন উদ্ধার করে পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাঁর ওপর হামলা চালায় তরুণীর আত্মীয়রা। জবরদস্তি ছিনিয়ে নেওয়া হয় মৌমিকে। গত দুই মাস ধরে স্ত্রীর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।
স্ত্রীকে ফিরে পেতে গত ৭ জানুয়ারি নিমতা থানা, মহিলা কমিশন এমনকি সিআইডির (CID) দ্বারস্থও হয়েছিলেন অরিজিৎ। কিন্তু পুলিশের তরফে কোনও সদুত্তর না পেয়ে অবশেষে গত ১০ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন তিনি। অরিজিতের আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস বলেন, “অভিযুক্তরা অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট প্রয়োগ করেনি। মনে হচ্ছে পুলিশ তাদের আড়াল করছে।” চলতি সপ্তাহেই হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কাঁটাতারের ওপার থেকে আসা এই লড়াইয়ের শেষ কোথায়, এখন সে দিকেই তাকিয়ে অরিজিৎ।