নিউজ ডেস্ক: ঝড়-বৃষ্টির রাতে অসুস্থ প্রেমিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন না করে গ্রামের এক প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রেখেই চম্পট দিলেন প্রেমিক। দীর্ঘ সময় বিনা চিকিৎসায় সেখানেই পড়ে থেকে নিথর হয়ে গেলেন ৩৫ বছরের প্রৌঢ়া ফুলো মুন্ডা। মঙ্গলবার সকালে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পারপাতলাখাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ফুলো মুন্ডা ফালাকাটার বাসিন্দা অর্জুন মুন্ডার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। সেখানেই ফুলো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্জুন তাঁকে নিয়ে নিজের এলাকায় ফিরে আসেন। সোমবার রাতে অর্জুন অসুস্থ ফুলোকে নিয়ে তাঁর দিদি মালতী মুন্ডার বাড়ি যান। বোনের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে মালতী দেবী বারবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার অনুরোধ জানান।

অভিযোগ, অর্জুন সেই রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ফুলোকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন। কিন্তু হাসপাতালের পরিবর্তে গ্রামের ওই প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় তাঁকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চম্পট দেন তিনি। সোমবার রাতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে চলা কালবৈশাখীর তাণ্ডব আর মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে কোনও চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলের বারান্দাতেই মৃত্যু হয় অসুস্থ মহিলার। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলের বারান্দায় দেহটি পড়ে থাকতে দেখে সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন।

মৃতের দিদি মালতী মুন্ডা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাম করে রাতের অন্ধকারে স্কুলের বারান্দায় ফেলে রেখে পালাল অর্জুন। ও-ই আমার বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ী। ওর কঠোর শাস্তি চাই।” পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সরকারি ছুটি থাকায় এদিন স্কুলে কোনও পড়ুয়া না থাকলেও, এই অমানবিক ঘটনায় গোটা গ্রাম স্তম্ভিত। অভিযুক্ত অর্জুনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

Share on Social Media