নিউজ ডেস্ক: সর্ষের মধ্যেই ভূত! কেষ্টপুরের এক অভিজাত আবাসনে বক্স খাটের ভিতর থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার সোনার অলঙ্কার চুরির ঘটনায় নাম জড়াল খোদ পরিচারিকার। কোনও বহিরাগত দুষ্কৃতী নয়, আলমারি বা খাটের গোপন কুঠুরিতে রাখা গয়না হাতানোর অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ গ্রেফতার করল ২৬ বছর বয়সী মন্দিরা হালদারকে। চুরির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার কিনারা করে সমস্ত অলঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের ওই ফ্ল্যাটে দম্পতি দুজনেই কর্মসূত্রে সকালে বেরিয়ে যেতেন। বাড়িতে থাকতেন বৃদ্ধা শাশুড়ি। তাঁকে দেখভাল এবং ঘরের কাজের জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে কাজে রাখা হয়েছিল কেষ্টপুরের পঞ্চাননতলা ঘোষপাড়ার বাসিন্দা মন্দিরাকে। দম্পতি শেষবার গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বক্স খাটের ভিতর রাখা গয়নাগুলি পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু ১৫ মার্চ বাক্স খুলতেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, প্রায় সমস্ত গয়না উধাও। ১৬ মার্চ বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৃহকর্তা।
তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহের তির যায় পরিচারিকার দিকেই। মঙ্গলবার মন্দিরাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতেই ভেঙে পড়ে সে। জেরায় মন্দিরা কবুল করে, দম্পতি কাজে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগে দিনের পর দিন অলঙ্কার সরাচ্ছিল সে। তবে নিজের বাড়িতে তল্লাশি হওয়ার ভয়ে চুরির গয়না ব্যাগে ভরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল। ওই আত্মীয়কে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে দেয়নি যে ব্যাগের ভিতর কী আছে।
বুধবার ধৃতের আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিয়ে পাচার হওয়া সমস্ত গয়না উদ্ধার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। ধৃতকে বুধবার বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়েছে। সাতসকালে এমন বিপুল পরিমাণ চুরির কিনারা হওয়ায় স্বস্তিতে অভিযোগকারী পরিবার। তবে ঘরের পরিচারিকাকে বিশ্বাস করে যে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছিল, তা নিয়ে কেষ্টপুর এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।