নিউজ ডেস্ক: ভিন রাজ্য থেকে কলকাতায় এসে ফল বিক্রির আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল সাইবার প্রতারণার কারবার। ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মহম্মদ শামিম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি আদতে বিহারের বাসিন্দা এবং সেখানেও তার বিরুদ্ধে একাধিক সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শামিম পেশায় ফল ব্যবসায়ী হলেও আসলে সে একটি আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য। কয়েক দিন আগে বিহার থেকে কলকাতায় এসে বেনিয়াপুকুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আস্তানা গেড়েছিল সে। সেখানেই এক স্থানীয় বাসিন্দা ড্রাইভিং লাইসেন্স করানোর চেষ্টা করছেন জানতে পেরে শামিম নিজেকে ওই কাজের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যে লাইসেন্স হাতে পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে অভিযোগকারীকে একটি বিশেষ ‘লিঙ্ক’ পাঠায় সে।
শামিম দাবি করেছিল, ওই লিঙ্কে ক্লিক করে ফর্ম ফিলাপ করলেই সরকারি ফি জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু অভিযোগকারী সেই লিঙ্কে ক্লিক করতেই ঘটে বিপত্তি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় ৪০ হাজার টাকা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি বেনিয়াপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, খোয়া যাওয়া টাকা সরাসরি শামিমের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হানা দিয়ে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ।
জেরায় ধৃত শামিম স্বীকার করেছে, এই চক্রের মূল পাণ্ডা বসে রয়েছে বিহারে। তার নির্দেশেই কলকাতায় এসে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার কাজ শুরু করেছিল সে। এর আগেও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করার ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতায় আর কতজন শামিমের এই ‘ডিজিটাল’ ফাঁদে পা দিয়ে টাকা খুইয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শহরের আনাচে-কানাচে এমন কতজন ‘ছদ্মবেশী’ জালিয়াত ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের।