নিউজ ডেস্ক: পাড়ার পরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড় করতে বেরিয়ে যে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি তিলজলার এক তরুণ। মদ্যপানের আসর বসিয়ে নিজের বন্ধুকেই ‘অপহরণ’ করে মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল চার যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিলজলা থানার পুলিশ অপহৃত তরুণকে উদ্ধার করার পাশাপাশি চার অভিযুক্ত বন্ধুকেই গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হল— শিবম সাহা, নীলাদ্রি লোধ, সৌরভ ঘোষ ও ঋধম সাহা।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী তরুণ ও ধৃত চার যুবক একই পাড়ার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত। মাঝেমধ্যেই তাঁরা একসঙ্গে পার্টি করতেন। মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তরা ওই তরুণকে ফোন করে জানায়, বাইরে কোথাও গিয়ে হুল্লোড় করার জন্য তারা একটি গাড়ি ভাড়া করেছে। বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তরুণটি বাড়ির সামনে আসতেই সেই ভাড়া করা গাড়িটি এসে দাঁড়ায়। গাড়িতে ওঠার পর সকলে মিলে মদ্যপান শুরু করেন। অভিযোগ, নেশা জমতেই হঠাৎই সুর বদলায় চার বন্ধুর। তরুণের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় অকথ্য মারধর।
বিপদ বুঝে কৌশলে নিজের মোবাইল থেকে বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানান ওই তরুণ। পরিবারের সদস্যরা কালক্ষেপ না করে তিলজলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তড়িঘড়ি মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তল্লাশি শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের ডেরা থেকে তরুণকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহরণে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
বুধবার ধৃত চারজনকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী বিকাশ দাস জানান, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্ধুকে অপহরণ করে শারীরিক নিগ্রহ করেছে। এই চক্রের নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের কড়া জেরার প্রয়োজন। সওয়াল-জবাব শেষে আদালত অভিযুক্তদের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। খাস কলকাতায় বন্ধুদের হাতেই বন্ধুর এমন হেনস্থার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।