নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ প্রশাসনে নির্বাচন কমিশনের ‘বদল-বোমা’ অব্যাহত। ভোট ঘোষণার পর থেকেই নবান্নের অলিন্দে যে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছিল, বুধবার তা কার্যত ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিল। একদিনে রাজ্যের ১১ জন জেলাশাসক (DM) সহ মোট ১৩ জন আইএএস এবং ৫ জন ডিআইজি-কে (DIG) অপসারিত করল কমিশন। রবিবারের পর থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৪৩ জন শীর্ষকর্তার বদলি হল, যা প্রশাসনিক ইতিহাসে কার্যত বেনজির।
কমিশন সূত্রের খবর, পদাধিকার বলে জেলাশাসকরাই জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও (DEO) হিসেবে কাজ করেন। অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সেই তাসের ঘরই ওলটপালট করে দিলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। এদিনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ— দুই কলকাতার ডিইও-কেও বদলে দেওয়া হয়েছে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বদলটি ঘটেছে উত্তর কলকাতায়। কলকাতা পুরসভার কমিশনার তথা উত্তর কলকাতার ডিইও অংশুল গুপ্তকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে আনা হয়েছে ২০০৫ ব্যাচের আইএএস স্মিতা পাণ্ডেকে। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে স্মিতা ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক। নন্দীগ্রামের গণনা নিয়ে খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন, সেই স্মিতাই এবার উত্তর কলকাতার ভোট পরিচালনার দায়িত্বে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ডিইও করা হয়েছে রণধীর কুমারকে। মুর্শিদাবাদের নতুন ডিইও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আর অর্জুন। স্মিতা, রণধীর ও অর্জুন— এই তিন আধিকারিকই সাম্প্রতিককালে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর্বে ‘রোল অবজার্ভার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও এদিন রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি পদেও নতুন মুখ এনেছে কমিশন।
কমিশনের কড়া নির্দেশ, যে সমস্ত আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজেই নিযুক্ত করা যাবে না। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে যেভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে একের পর এক ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালাচ্ছে কমিশন, তাতে নবান্নের অন্দরে কার্যত ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, শাসক শিবিরের অন্দরে এই বদল ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।