নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বেসরকারি ডিএলএড (D.El.Ed) কলেজগুলির ‘মনগড়া’ হাজিরায় লাগাম টানতে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আগামী ২০ দিনের মধ্যে সমস্ত বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্ষদের জারি করা ওই নির্দেশে সাফ জানানো হয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে ডিজিটাল হাজিরার পরিকাঠামো তৈরি না করলে সংশ্লিষ্ট কলেজের অনুমোদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
পর্ষদ সূত্রে খবর, নতুন এই ব্যবস্থায় কেবল পড়ুয়াই নয়, শিক্ষকদের হাজিরার তথ্যও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করতে হবে। শুধু বায়োমেট্রিক যন্ত্র বসালেই মিলবে না রেহাই; প্রতি সপ্তাহে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের হাজিরার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। পর্ষদের স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুণমান বজায় রাখতে এই স্বচ্ছতা অপরিহার্য। কোনওভাবেই এই নিয়ম এড়ানোর সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই (NCTE) ২০১৯ সালেই এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই ভিত্তিতে পর্ষদ আগেও একাধিকবার নির্দেশ দিলেও অনেক কলেজই তা থোড়াই কেয়ার করেছে। অভিযোগ, পরীক্ষার সময় ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির ভুয়ো তথ্য জমা দিয়ে পর্ষদকে বিভ্রান্ত করা হতো। এবার সেই ‘ফাঁকিবাজি’ রুখতেই কোমড় বেঁধে নেমেছে গৌতম পালের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ।
ইতিমধ্যেই পরিকাঠামোগত ত্রুটি ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ধাপে ধাপে বহু ডিএলএড কলেজের অনুমোদন কেড়ে নিয়েছে পর্ষদ। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, পর্ষদের এই ‘আল্টিমেটাম’-এর পর অন্তত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে আর ঝুঁকি নিতে চাইবে না বেসরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষগুলি। ২০ দিনের এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পর্ষদ আচমকা পরিদর্শনে নামতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।