নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার এক নামী আইন কলেজে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হল শিক্ষা মহলে। সাজেশনের নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যা দেওয়া হয়েছিল, পরীক্ষার খাতায় এল হুবহু সেই প্রশ্নই— এমনটাই দাবি করেছেন কলেজের তিন পড়ুয়া। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই জোড়াসাঁকো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে ইতিমদ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
যদিও অভিযুক্ত কলেজটি দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত, তবে সেটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হওয়ায় জোড়াসাঁকো থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী তিন ছাত্রের দাবি, পরীক্ষার আগে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছিল। সেখানে ‘সাজেশন’ হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষার হলে আসল প্রশ্নপত্র হাতে পেতেই চক্ষু চড়কগাছ ছাত্রদের। দেখা যায়, সাজেশনের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি শব্দ হুবহু মিলে গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ নিজেই এই প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তদন্তে নেমে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আসল প্রশ্নপত্রের প্রতিলিপি চেয়ে পাঠিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য কারা ছিলেন এবং প্রশ্নপত্রগুলি কোথা থেকে ছড়াল, তা জানতে ডিজিটাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না বলে দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা। কোনও অশুভ আঁতাতের ফলেই কি অধ্যক্ষ প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে— তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। খোদ আইনের পাঠশালাতেই যদি এমন বেআইনি কাজ চলে, তবে সাধারণ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ কোন পথে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন ঝুলে গেল।