নিউজ ডেস্ক: ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা আসতে এখনও মাস কয়েক দেরি, কিন্তু হিমালয়ের কোলে ধস মোকাবিলায় এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নয় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) কর্তৃপক্ষ। ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা ধরে রাখা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ‘প্রি-মনসুন স্পেশাল ড্রাইভ’। সুকনা থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রেলপথে কড়া নজরদারি চালাতে নামানো হয়েছে ৬০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীকে।
রেল সূত্রে খবর, প্রতি বছরই বর্ষার মরশুমে রংটং, তিনধারিয়া বা মহানদীর মতো ধসপ্রবণ এলাকায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিষেবা ব্যাহত হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই সেকশন ভিত্তিক নজরদারি শুরু হয়েছে। দুই থেকে তিন জনের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এই কর্মীরা প্রতিদিন ট্র্যাকের ওপর দিয়ে হেঁটে পরীক্ষা চালাবেন। পাহাড়ি পথের কোথাও সামান্য ফাটল, মাটির আলগা হওয়া বা ধসের সংকেত নজরে এলেই দ্রুত রিপোর্ট পাঠাবেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। মূলত ছোটখাটো ধসগুলিকে বড় আকার নেওয়ার আগেই আটকে দেওয়া এবং রেললাইনের ধারের নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখাই এই ড্রাইভের মূল লক্ষ্য।
ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্ষার শেষ দিন পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি জারি থাকবে। তাঁর কথায়, “ছোট ছোট ধসের ক্ষেত্রে আমরা আগাম পদক্ষেপ করছি। তবে বড় কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বিশেষ উদ্ধারকারী দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” ফি বছর বর্ষায় টয়ট্রেন চলাচল থমকে যাওয়া নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়, এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে রেল কর্তৃপক্ষ।