ভোটের দিন বোমা ফাটলে ‘সাসপেন্ড’ হবেন ওসি, নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি রাজ্য পুলিশের

নিউজ ডেস্ক: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার কার্যত ‘বজ্র আঁটুনি’র পথে হাঁটল প্রশাসন। ভোটের দিন এলাকায় কোনওভাবে বোমা ফাটলে কিংবা বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো হলে সংশ্লিষ্ট থানার ইনস্পেক্টর বা ওসি-র বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে তাঁদের ‘সাসপেন্ড’ করার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিতে পারে কমিশন। বুধবার রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদের শীর্ষকর্তার তরফে প্রতিটি জেলায় এমনই কড়া বার্তা সম্বলিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

রাজ্যে ভোটের আবহে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে যে, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও অনেক থানা এলাকায় দাগি অপরাধীদের গ্রেপ্তার বা বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষমহল। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এলাকায় বিস্ফোরক বা কার্তুজ উদ্ধারে ব্যর্থ হলে এবং পরে সেই বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভোটের দিন অশান্তি পাকানো হলে তার দায় বর্তাবে সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকদের ওপরেই।

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট দাবি, কোনও দুষ্কৃতী যাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটপর্ব বানচাল করতে না পারে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে পুলিশকেই। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় ‘হিস্ট্রি শিটার’ বা ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদেরও এই শাস্তির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সাসপেনশনের এই নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি পাওয়ার পর থেকেই রাজ্য ও কলকাতার প্রতিটি থানার আধিকারিকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি ভোট চলাকালীন পুলিশকর্মীদের সুরক্ষা ও সরঞ্জামের বিষয়েও একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিউটিতে থাকা প্রতিটি পুলিশকর্মীর কাছে বাধ্যতামূলকভাবে লাঠি, ঢাল এবং অনুমোদিত সার্ভিস রিভলভার থাকতে হবে। কোনও জেলাতেই যেন বাহিনীর সংখ্যায় ঘাটতি না থাকে, তার জন্য আগেভাগেই যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সব মিলিয়ে, অশান্তি রুখতে লাঠি আর আইনি দণ্ড— দুই দাওয়াই নিয়েই এবার ময়দানে নামছে পুলিশ প্রশাসন।

Share on Social Media
  • Related Posts

    ভোটের আগে আমজনতার ভয় কাটাতে ‘ডেডলাইন’, রোজ এলাকায় গিয়ে ছবি আপলোডের নির্দেশ নবান্নের

    নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে ভোটারদের মনোবল বাড়াতে এ বার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে প্রশাসন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের যৌথভাবে এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করার যে…

    Share on Social Media

    শুধু চুনোপুঁটি নয়, এ বার নজরে ‘রাঘববোয়াল’! অপরাধীদের ‘মাথা’ ধরতে থানাগুলিকে চরমসীমা কমিশনের

    নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে এ বার রণকৌশল বদলাল নির্বাচন কমিশন। কেবল নিচুতলার ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা দাগি অপরাধীদের ধরপাকড় করলেই যে শান্তি ফিরবে না, তা বিলক্ষণ…

    Share on Social Media

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    আরও পড়ুন

    বটি দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী! ২০ বছরের দাম্পত্য কলহের রক্তক্ষয়ী পরিণতি বড়ঞায়

    বটি দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী! ২০ বছরের দাম্পত্য কলহের রক্তক্ষয়ী পরিণতি বড়ঞায়

    ভোটের আগে আমজনতার ভয় কাটাতে ‘ডেডলাইন’, রোজ এলাকায় গিয়ে ছবি আপলোডের নির্দেশ নবান্নের

    ভোটের আগে আমজনতার ভয় কাটাতে ‘ডেডলাইন’, রোজ এলাকায় গিয়ে ছবি আপলোডের নির্দেশ নবান্নের

    শুধু চুনোপুঁটি নয়, এ বার নজরে ‘রাঘববোয়াল’! অপরাধীদের ‘মাথা’ ধরতে থানাগুলিকে চরমসীমা কমিশনের

    শুধু চুনোপুঁটি নয়, এ বার নজরে ‘রাঘববোয়াল’! অপরাধীদের ‘মাথা’ ধরতে থানাগুলিকে চরমসীমা কমিশনের

    ভোটের ময়দানে নিরক্ষর থেকে ডক্টরেট: প্রথম দফার প্রার্থীদের পড়াশোনার বহর দেখে তাজ্জব নজরদারি সংস্থা

    ভোটের ময়দানে নিরক্ষর থেকে ডক্টরেট: প্রথম দফার প্রার্থীদের পড়াশোনার বহর দেখে তাজ্জব নজরদারি সংস্থা

    ভোট না দিলে পাছে ‘সমস্যা’ হয়! চব্বিশের উত্তাপে উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকিটে হাহাকার ধর্মতলায়

    ভোট না দিলে পাছে ‘সমস্যা’ হয়! চব্বিশের উত্তাপে উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকিটে হাহাকার ধর্মতলায়

    বুথে কি রাজনৈতিক ‘দাদাগিরি’? উধাও এজেন্টদের খুঁজতে এ বার বাড়ি যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    বুথে কি রাজনৈতিক ‘দাদাগিরি’? উধাও এজেন্টদের খুঁজতে এ বার বাড়ি যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী
    error: Content is protected !!

    AdBlock

    We rely on ads to maintain this site. Disabling your ad blocker helps us serve you better.