নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আমেজ ফিকে করে ভোটের মুখে রাজ্যে ফের উদ্ধার হলো লক্ষ লক্ষ কালো টাকা। বুধবার, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই কলকাতা এবং বর্ধমান মিলিয়ে মোট ৬৫ লক্ষ ৭৭ হাজার হিসাব-বহির্ভূত টাকা বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ ও জিআরপি। এর মধ্যে খাস কলকাতার চারটি থানা এলাকা থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বর্ধমান রেল স্টেশন থেকে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থের উৎস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্য়েই আয়কর দফতর ও নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাস মিত্র জানিয়েছেন, বুধবার মহানগরের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় নাকা তল্লাশি চালিয়ে মোট ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শেক্সপিয়র সরণি থানার জওহরলাল নেহরু রোড এলাকা থেকে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং হেয়ার স্ট্রিট থানার ফরেন পোস্ট অফিসের সামনে থেকে ১৫ লক্ষ ৯ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এ ছাড়াও প্রগতি ময়দান ও চারু মার্কেট থানা এলাকাতেও নাকা চেকিং চলাকালীন লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অন্য দিকে, বড়সড় সাফল্য মিলেছে বর্ধমান রেল স্টেশনেও। জিআরপি সূত্রে খবর, স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। ধৃত সুনীল কুমার এবং অধেশ কুমারের ব্যাগ তল্লাশি করে উদ্ধার হয় ৩৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা দাবি করেন, চাল কেনার জন্য তাঁরা ওই বিপুল টাকা নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু টাকার সপক্ষে কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই নববর্ষের দিনে এই পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লালবাজারের গোয়েন্দারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে প্রভাবশালী কোনও গোষ্ঠীর কাছে এই টাকা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। ধৃতদের জেরা করে এই অর্থ পাচারের পিছনে কোনও বড় রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।