নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার ও মিছিলে রাশ টানতে এ বার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, একই এলাকায় বা একই রুটে বিবদমান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বা মিছিল কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই নির্দেশ অমান্য করে যদি এলাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়, তবে তার সরাসরি দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (SP) বা কমিশনারকে (CP)। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশিকা রাজ্য পুলিশের শীর্ষমহল ও জেলাগুলিতে পাঠিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভিডিয়ো ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, এক দলের মিছিল চলাকালীন সেই একই রাস্তায় অন্য দলের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে এবং বহু ক্ষেত্রে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। এই ধরণের পরিস্থিতি রুখতে ‘সুবিধা’ অ্যাপের মাধ্যমে সভার অনুমতি দেওয়ার সময় পুলিশকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রুট নির্বাচনের সময় স্থানীয় পুলিশ নিয়ম মানছে না, যার ফলে অশান্তি বাড়ছে।
নতুন এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে এসপি বা সিপি-কে লিখিতভাবে জানাতে হবে ঠিক কার গাফিলতিতে এমনটা ঘটল। ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশকর্মীকে চিহ্নিত করে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। থানার আইসি এবং ওসি-দের এই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়েছে, কোনওভাবেই দুই বিরুদ্ধ শিবিরের মিছিল বা মিটিং একই জায়গায় হতে দেওয়া যাবে না।
এর পাশাপাশি মহানগরীর ভোটকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। শহরের যে সমস্ত পোলিং বুথ সরু গলির ভেতরে অবস্থিত, সেগুলিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ধরণের বুথগুলির তালিকা দ্রুত লালবাজারে পাঠাতে। লক্ষ্য একটাই, সরু গলির বুথে অশান্তি হলে যাতে কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) অন্তত চার-পাঁচটি বাইক অনায়াসেই সেখানে দ্রুত পৌঁছতে পারে। মূলত বাইক-বাহিনীর সক্রিয়তা বাড়িয়ে তিলোত্তমার অলিগলিতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।