নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনে ‘বাতিল’ বা ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কোনও ভোটারের নাম যদি ভোটের মাত্র দু’দিন আগেও তালিকায় ফিরে আসে, তবে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পর রাজ্য রাজনীতিতে যেমন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হয়েছে তোড়জোড়।
আদালতের এই রায়ের পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল কীভাবে কাজ করছে বা সেখানে কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তা কমিশনের সরাসরি এক্তিয়ারভুক্ত নয়। বর্তমানে ঠিক কতজন ভোটারের আবেদন গৃহীত হয়েছে, সেই সঠিক পরিসংখ্যানও এখনও কমিশনের হাতে নেই। মনোজবাবুর কথায়, ‘‘প্রথমে একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করতে হবে। তবে সেই ড্যাশবোর্ড বা ট্রাইব্যুনালের এসওপি (SOP) সংক্রান্ত কোনও তথ্য এখনও আমাদের কাছে পৌঁছয়নি।’’
তবে কারিগরি দিক থেকে কমিশন যে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিইও। তিনি জানিয়েছেন, যদি কোনও ব্যক্তির নাম ট্রাইব্যুনাল থেকে বহাল করার নির্দেশ আসে, তবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই তথ্য কমিশনের ডেটাবেসে আপডেট হয়ে যাবে। সংশোধিত এই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) সরাসরি ওই ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং সময়মতো তাঁকে ভোটদানের খবর পৌঁছে দেবেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে কয়েক হাজার ভোটার শেষ মুহূর্তে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আশা দেখছেন। যদিও ট্রাইব্যুনালের কাজের গতি এবং ডাটাবেস সমন্বয়ের ওপরই এখন সবকিছু নির্ভর করছে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য, আদালতের নির্দেশ মেনে কোনও বৈধ নাগরিক যাতে শেষ মুহূর্তেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করা।