নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার ব্যস্ততম রেল স্টেশন থেকে এক তরুণীকে অপহরণ এবং চারদিন ধরে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই তরুণীকে আমতলার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নিগ্রহ ও তাঁর সর্বস্ব লুণ্ঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জিরো এফআইআর-এর (Zero FIR) ভিত্তিতে বালিগঞ্জ জিআরপি অপহরণ ও গণধর্ষণ-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিগৃহীতা তরুণী বালিগঞ্জের একটি আয়া সেন্টারে কাজ করেন। গত ৯ এপ্রিল পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি বালিগঞ্জ স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ বসে কান্নাকাটি করছিলেন। সেই সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁর অসহায়তার সুযোগ নিয়ে আলাপে লিপ্ত হয়। তরুণীকে ভালো কাজের প্রলোভন দিয়ে কৌশলে স্টেশনের বাইরে নিয়ে আসে অভিযুক্ত। এরপর রাসবিহারী হয়ে তাঁকে বিষ্ণুপুরের আমতলার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পর আরও তিন-চার জন যুবক উপস্থিত হয় এবং চারদিন ধরে তাঁকে দফায় দফায় ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল-সহ সমস্ত দামি জিনিস কেড়ে নেওয়া হয়।
টানা চারদিন অমানুষিক নির্যাতনের পর তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে, দুষ্কৃতীরা তাঁকে একটি নির্জন ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। পরে এক পথচারী যুবকের সাহায্যে তিনি কোনওরকমে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে গোটা বিষয়টি জানান। প্রথমে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ জানানো হলেও, ঘটনাস্থল বালিগঞ্জ স্টেশন হওয়ায় তারা একটি ‘জিরো এফআইআর’ রুজু করে মামলাটি রেল পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে।
তদন্তে নেমে রেল পুলিশ ইতিমধ্য়েই বালিগঞ্জ স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। নিগৃহীতার বয়ান অনুযায়ী আমতলার ওই নির্দিষ্ট হোটেলটিকেও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। নিগৃহীতার গোপন জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। শহরের অদূরে এমন নক্করজনক ঘটনায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।