নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্কুল বোর্ড (সিবিএসই) প্রথাগতভাবে কোনও মেধা তালিকা প্রকাশ না করলেও, এ বছর দশম শ্রেণির পরীক্ষায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে তিলোত্তমার দুই কৃতি যমজ বোন। দমদমের কালিন্দী হাউজিংয়ের বাসিন্দা অনিশা ঘোষ ৫০০-র মধ্যে ৫০০ নম্বর পেয়ে দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ স্থানাধিকারী হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ভারতীয় বিদ্যাভবন স্কুলের এই ছাত্রীর সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর যমজ বোন অনিষ্কা ঘোষও ৯৯.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে ঈর্ষণীয় নজির গড়েছেন। দুই কন্যার এই জয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশির জোয়ার ঘোষ পরিবারে। তবে মে মাসে আয়োজিত হতে চলা দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় আর বসার ইচ্ছে নেই তাঁদের; বরং একাদশের পড়াশোনাতেই এখন মনোনিবেশ করতে চায় দুই বোন।
শহরের অন্যান্য স্কুলগুলিতেও এ বার ৯০ বা ৯৫ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়ার হিড়িক চোখে পড়ার মতো। লক্ষ্মীপৎ সিংহানিয়া স্কুলে ১৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ জনই ৯৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছেন। ডিপিএস রুবি পার্কে এই কৃতিদের সংখ্যা ২২২ এবং সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলে ১৮৮ জন ছাত্রছাত্রী ৯৫ শতাংশের গণ্ডি টপকে গিয়েছেন। বিডিএম ইন্টারন্যাশনাল ও মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড আকাদেমিতেও সাফল্যের পরিসংখ্যান যথেষ্ট সন্তোষজনক।
তবে এই খুশির আবহে একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা চিন্তায় রেখেছে স্কুল প্রধানদের। দেখা যাচ্ছে, বিগত বছরগুলির তুলনায় এ বার বিজ্ঞান বিভাগে ৯০ বা ৯৫ শতাংশ নম্বর পাওয়ার হার আগের চেয়ে কমেছে। উল্টোদিকে হিউম্যানিটিজ এবং কমার্স বিভাগে কৃতি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সাউথ পয়েন্ট স্কুলে গণিতে পূর্ণ নম্বর পাওয়া পড়ুয়ার গড় সংখ্যা যেখানে ৪০-৫০ থাকত, এ বার তা ১০-এর নীচে নেমে এসেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেশি মগ্ন থাকার কারণেই হয়তো বোর্ড পরীক্ষায় বিজ্ঞানের পড়ুয়ারা আশানুরূপ ফল করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পৃথক সিলেবাসের চাপও বোর্ড পরীক্ষার নম্বরে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।