নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বীরভূমে বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক নিস্পৃহতা বজায় না রাখা এবং বিধিভঙ্গের অভিযোগে জেলার দুই বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভোটার স্লিপ বিলির সময় তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসক দলের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন। কমিশনের এই কড়া অবস্থানে জেলার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রের খবর, দুবরাজপুর বিধানসভার অন্তর্গত খয়রাশোল ব্লকের মঞ্জুরি চট্টোপাধ্যায় নামে এক বিএলও-কে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ভোটার স্লিপ বিলি করতে দেখা যায়। মঞ্জুরিদেবী পেশায় এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। গত বৃহস্পতিবার তাঁর এই স্লিপ বিলির একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করার পর কমিশন তড়িঘড়ি মঞ্জুরিদেবীকে নির্বাচনী কাজ এবং মূল চাকরি— উভয় থেকেই সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও অভিযুক্ত কর্মীর দাবি, চড়া রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি ওই কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে সেখানে স্লিপ বিলি করেন। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী বিধিভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনও অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকের গাজিপুরের বিএলও জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে। পেশায় পার্শ্বশিক্ষক জয়নাল তাঁর সাইকেলে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ছবি কমিশনের হাতে পৌঁছতেই সক্রিয় হয় প্রশাসন। তাঁকেও অবিলম্বে কাজ থেকে সরিয়ে দিয়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জেলা নির্বাচনী দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিএলও-দের কাজ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ব্যবহার বা পতাকা লাগানো স্পষ্টত নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

Share on Social Media