নিউজ ডেস্ক: যৌন হেনস্থা মানেই কেবল মেয়েদের নিগ্রহ— সমাজের এই বদ্ধমূল ধারণা ভেঙে দেওয়ার সময় এসেছে। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ছেলেরাও সমানভাবে বা কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি যৌন লালসার শিকার হয়। কিন্তু সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং ‘ছেলেরা নির্যাতিত হতে পারে না’— এমন ভ্রান্ত বিশ্বাসের দেওয়াল টপকে সেই সব অভিযোগ কখনও প্রকাশ্যে আসে না। শনিবার কলকাতার এক আলোচনা সভায় এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা।
১৬ এপ্রিল ছিল ‘ব্লু আমব্রেলা ডে’। ছেলেদের ওপর হওয়া যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়। এই উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রাজক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস, উপদেষ্টা অনন্যা চক্রবর্তী, ডিরেক্টর দীপ পুরকায়স্থ-সহ বিশিষ্টরা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া বহু পুরুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও মাত্র ২৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়েছেন। তাঁরা মেনে নিয়েছেন যে, শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত পরিবার, স্কুল এমনকি বিভিন্ন পরিচিত গণ্ডিতে তাঁরা যৌন লালসার শিকার হয়েছেন, কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন তা জনসমক্ষে আনতে পারেননি।
রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস এক উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘‘পকসো (POCSO) আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা এখনও অত্যন্ত অস্পষ্ট। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৫০ শতাংশ ছেলে জীবনের কোনও না কোনও সময়ে যৌন হেনস্থার শিকার হলেও মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের হয়। ফলে প্রকৃত চিত্রটি কমিশনের কাছেও পৌঁছয় না।’’ কমিশনের উপদেষ্টা অনন্যা চক্রবর্তী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান, কীভাবে সেখানেও পকসো ধারা যুক্ত করতে পুলিশকে দীর্ঘ টালবাহানা করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ওই মামলায় পকসোর ধারা দেওয়া হয়। এই ধরণের ঘটনার মোকাবিলায় কমিশন শীঘ্রই একটি হেল্পলাইন চালু করার পরিকল্পনা করছে।
আলোচনা সভায় জয়প্রকাশ ইনস্টিটিউটের সদস্য সমাপ্তি মাইতি অভিভাবকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর মতে, সঠিক লালন-পালন বা ‘পেরেন্টিং’ নিয়ে সচেতনতার অভাবেই অনেক সময় শিশুদের ওপর হওয়া এই নিগ্রহ পরিবারের নজর এড়িয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজ যতদিন না মানসিকভাবে মেনে নিচ্ছে যে ছেলেরাও নির্যাতিত হতে পারে, ততদিন এই সমস্যার সমাধান বা ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব।