নিউজ ডেস্ক: খোদ ভোটকর্মীদেরই ভোটাধিকার সঙ্কটে! রবিবার বিকেলে হাওড়ার উলুবেড়িয়া কলেজের সামনে ওটি রোডে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধে শামিল হলেন কয়েকশ ভোটকর্মী। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের প্রশিক্ষণ নিতে এলেও ব্যালট পেপার অমিল থাকায় তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।
জানা গিয়েছে, রবিবার আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটকর্মীদের দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণের জন্য উলুবেড়িয়া কলেজে ডাকা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ শেষে ওই কর্মীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর কর্মীরা জানতে পারেন, প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার এখনও পৌঁছয়নি। এমনকি অনেক কর্মীর নাম তালিকায় নেই বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটকর্মীদের একাংশ। ‘ভোট করাতে যাচ্ছি কিন্তু নিজের ভোট দিতে পারছি না কেন?’— এই প্রশ্ন তুলে তাঁরা কলেজের সামনে ওটি রোড অবরোধ করেন।
বিক্ষোভকারী ভোটকর্মী মিলন মাজি বলেন, ‘‘আজ আমাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার কথা ছিল। অথচ আমাদের জন্য ব্যালট পেপারই আসেনি। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা।’’ একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হুগলির খানাকুলের বাসিন্দা তথা ভোটকর্মী স্মৃতিকণা। তিনি বলেন, ‘‘ব্যালট তো আসেইনি, এমনকি তালিকায় নামও নেই। এখন বলা হচ্ছে ফর্ম ১২ পূরণ করতে। তাতে আদৌ ভোট দিতে পারব কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।’’
অবরোধের জেরে ওটি রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে ব্যালট পৌঁছতে দেরি হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রতিটি ভোটকর্মী যাতে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করা হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন কর্মীরা। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও প্রশাসনের নজরদারিতে ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।