নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকের এক নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক ছাত্রকে শারীরিক নিগ্রহ, সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ছাত্র এবং অভিযুক্তরা— সকলেই ওই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিত ছাত্র। তদন্তে নেমে পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিগৃহীত ওই ছাত্র আদতে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। পেশার টানে কলকাতায় এসে সল্টলেকের ওই নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই। ক্লাসে যাওয়ার সময় একদল পড়ুয়া আচমকাই তাঁর পথ আটকায় এবং বিনা প্ররোচনায় বেধড়ক মারধর শুরু করে। অভিযোগ, নিগ্রহের মাত্রা এতটাই ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে অভিযুক্তরা তাঁর হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেয়। এরপর জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, মারধরের পর তাঁকে টেনে হিঁচড়ে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে জোর করে অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে দুই হাজার টাকারও বেশি ট্রান্সফার করিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। কোনওরকমে সেখান থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে ওই ছাত্র পুলিশের দ্বারস্থ হন। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সক্রিয় হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত একজনকে পাকড়াও করে। এই ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের কোথায় গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।