নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের বাদ্যি বাজার ঠিক আগে রাজ্যে প্রচারে ‘অল-আউট’ ঝাঁপালো গেরুয়া শিবির। সোমবার ২০ এপ্রিল, বীরভূম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর— রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নক্ষত্র সমাবেশে তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতির ময়দান। এ দিন সাঁইথিয়ায় রাজনাথ সিং, মেদিনীপুরে যোগী আদিত্যনাথ এবং মুর্শিদাবাদে জেপি নাড্ডা ঝোড়ো প্রচার চালালেন। প্রতিটি সভা থেকেই তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধে উন্নয়নের বিকল্প মডেলের ডাক দিলেন তাঁরা।
সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গোপালকৃষ্ণ গোখলের সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘বাঙালি যা আজ ভাবে, ভারত তা ভাবে কাল। সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে আমাদের মাত্র ১০ বছর সময় দিন। আমি কথা দিচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গ সব বিষয়ে দেশের শীর্ষে থাকবে।’’ রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনাথের দাবি, তৃণমূলের আমলে শিল্পপতিরা বাংলা ছাড়ছেন, বেড়ে গিয়েছে দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র। রাজ্যের প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব গুন্ডা-বদমাশ হয় ঘরে থাকবে, নয়তো জেলে, না হলে উপরে চলে যাবে।’’ পাশাপাশি ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন চালুর বড় আশ্বাসও দেন তিনি।
অন্য দিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের নির্বাচনী সভা থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ‘ভারত মাতা’ এবং ‘মা কালী ও দুর্গা’-র জয়ধ্বনি দিয়ে ভাষণ শুরু করেন। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের রাজ্যের তুলনা টেনে যোগী বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে নেই কোনও কার্ফু, নেই কোনও দাঙ্গা। উত্তরপ্রদেশে সব চাঙ্গা।’’ তাঁর অভিযোগ, বাংলায় তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের ক্রমাগত অপমান করা হচ্ছে। ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে যোগীর বার্তা, ‘‘গত ১৫ বছর অনেক খেলা হয়েছে। এ বার সেই খেলা বন্ধ করে উন্নয়নের খেলা শুরু করার সময় এসেছে।’’ একই দিনে মুর্শিদাবাদে কোমর বেঁধে প্রচারে নামেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে শাসকদলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ পদ্ম শিবির।