নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে তুলকালাম। তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গার কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরমের দলীয় কার্যালয় থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা পুলিশের সামনেই ছিনতাই করে পালাল একদল উত্তেজিত জনতা। নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াড তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করলেও, তা শেষ পর্যন্ত ট্রেজারিতে পৌঁছল না। মাঝরাস্তায় কমিশনের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে টাকা লুটের এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতের নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
পুলিশ ও কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল যে কারাইকুডি এলাকায় কার্তির দলীয় কার্যালয়ে ভোটারদের বিলি করার জন্য বিপুল পরিমাণ নগদ রাখা হয়েছে। সেই মতো হানা দেয় কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াড। তল্লাশিতে তিনটি ব্যাগ ভর্তি মোট ১৩ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। বিপত্তি ঘটে টাকা গোনার সময়। পালানিয়াপ্পান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি টাকা গোনার দৃশ্য ভিডিও রেকর্ড করার জন্য কমিশনের কর্মীদের ওপর চাপ দিতে থাকেন। ভিডিও চলাকালীনই আচমকা জনা তিরিশেক লোক স্কোয়াডের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে টাকার ব্যাগগুলো ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। পরিস্থিতি এমনই চরমে পৌঁছয় যে, কমিশনের গাড়ির চাবিটিও ছিনতাই করে নেওয়া হয় যাতে তাঁরা পিছু নিতে না পারেন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান দেবাকোট্টাইয়ের সাব কালেক্টর আয়ূষ ভেঙ্কট ভাটস এবং এএসপি আশিস পুনিয়া। এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পালানিয়াপ্পানকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ছিনতাই হওয়া টাকা এবং অভিযুক্ত বাকি দুষ্কৃতীরা এখনও বেপাত্তা। তাদের সন্ধানে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের ঠিক আগে সাংসদের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা এবং তা ‘জনরোষে’র নামে লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।