নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার একবালপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বন্দর এলাকা। বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। এই ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত একবালপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)-কে দেখতে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। আক্রান্ত পুলিশকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাতে মোমিনপুরের হোসেন শাহ রোডে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের একটি সভা চলাকালীন গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, সভা চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে একবালপুর থানার পুলিশ ও বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপরই চড়াও হয় বলে অভিযোগ। একবালপুর থানার ওসির দাবি, ধস্তাধস্তির সময় তাঁর পায়ে ব্লেড বা ওই জাতীয় কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ওসির পাশাপাশি আরও অন্তত পাঁচজন পুলিশকর্মী এই ঘটনায় জখম হয়েছেন। লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ছাড়াও খোদ পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে উন্মত্ত জনতা।
এই হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআর-এর মধ্যে দু’টিতেই নাম রয়েছে তাঁর। মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, “পুলিশের ওপর এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।” এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খিদিরপুর ও মোমিনপুর এলাকায় বিজেপি প্রার্থীর পরবর্তী মিছিলের অনুমতি বাতিল করেছে প্রশাসন।