নিউজ ডেস্ক: দিল্লির অমর কলোনিতে প্রাক্তন আইআরএস (IRS) অফিসারের মেধাবী কন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত পরিচারক রাহুল মিনার স্বীকারোক্তিতে স্তম্ভিত দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। বুধবার রাতে দ্বারকার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তারের পর জেরায় বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি রাহুলের চোখে-মুখে। বরং অত্যন্ত শান্ত গলায় সে জানিয়েছে, ‘দিদি যদি টাকা দিত, তাহলে এমনটা হত না।’ অনলাইন গেমিংয়ের নেশা আর ঋণের দায়ে ডুবে থাকা এই যুবক কেবল টাকার লোভেই সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পরিকল্পিত হানা ও নৃশংসতা: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে রাহুলের রক্তহিম করা পরিকল্পনার ছক। বুধবার সকালে যখন তরুণীর বাবা-মা জিমের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোন, ঠিক তখনই পাসকোড ব্যবহার করে আবাসনে ঢোকে রাহুল। মৃত তরুণী তখন ছাদের ঘরে ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাহুল ঘরে ঢুকে টাকা চাইলে তরুণী অস্বীকার করেন। এর পরেই একটি ধাতব বস্তু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে রাহুল। তরুণী জ্ঞান হারালে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে রক্তাক্ত তরুণীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনা হয় যাতে তাঁর আঙুলের ছাপ দিয়ে লকারের বায়োমেট্রিক লক খোলা যায়।
লকার লুঠ ও সিসিটিভি ফুটেজ: বায়োমেট্রিক লক কাজ না করায় শেষমেশ স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে লকার ভেঙে প্রায় ২ লক্ষ টাকা ও গহনা নিয়ে চম্পট দেয় রাহুল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা ২৪ মিনিটে হলুদ শার্ট পরা রাহুল আবাসনের দিকে যাচ্ছে এবং ৭টা ২০ মিনিটে সে সেখান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। অমর কলোনির ওই সিসিটিভি ফুটেজই রাহুলকে ধরার প্রধান সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। ধৃত রাহুল ওই বাড়িতে আট মাস কাজ করেছিল, কিন্তু আর্থিক তছরুপের দায়ে মাস দেড়েক আগে তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অপরাধের লম্বা তালিকা: তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাহুল কেবল খুনি নয়, সে একজন সিরিয়াল অপরাধী। ২২ এপ্রিল সকালে দিল্লিতে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর আগের রাতেই রাজস্থানের আলওয়ারে নিজের এক প্রতিবেশীকে সে ধর্ষণ করেছিল বলে অভিযোগ। অনলাইন গেমিংয়ে আসক্ত রাহুলের মাথার ওপর ছিল পাহাড়প্রমাণ ঋণ, আর সেই টাকা জোগাড় করতেই সে একের পর এক অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে। আপাতত রাহুলের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও লুঠতরাজ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশের ১৫টি বিশেষ দল।