নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। মানিকতলা এলাকায় রুটমার্চ করার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের বন্দুকের ম্যাগজিন খোওয়া যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এক পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। রবিবারের এই জোড়া ঘটনায় প্রশাসনের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
রুটমার্চের মাঝেই রহস্যজনক অন্তর্ধান: পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার মানিকতলা এলাকায় অভিনেতা-সাংসদ দেবের একটি রোড-শো ছিল। তার আগেই এলাকায় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে রুটমার্চ চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। মার্চ চলাকালীন হঠাৎই এক জওয়ান লক্ষ্য করেন, তাঁর ইনসাস রাইফেলের ম্যাগজিনটি যথাস্থানে নেই। তড়িঘড়ি গোটা এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও ম্যাগজিনটির হদিস না মেলায় শেষ পর্যন্ত মানিকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই জওয়ান। জনবহুল এলাকায় কীভাবে জওয়ানের বন্দুক থেকে ম্যাগজিনটি খুলে পড়ল না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কমিশনের কড়া কোপ পুলিশকর্মীর ওপর: ভোটের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই নজরদারিতেই ধরা পড়লেন কলকাতা পুলিশের এক কর্মী। জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণ কয়াল নামে ওই পুলিশকর্মী সমাজমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কমিশন ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করার পর কড়া অবস্থান নিয়ে ওই পুলিশকর্মীকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনের সময় সরকারি কর্মীর এই ধরণের আচরণ ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের সামিল বলে মনে করছে কমিশন।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ: মানিকতলার মতো জনবহুল এলাকায় ম্যাগজিন খোওয়া যাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে লালবাজার। ম্যাগজিনটি কোনও দুষ্কৃতীর হাতে পড়লে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানিকতলা থানার পুলিশ ইতিমধ্য়েই রাস্তার ধারের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে খোদ খাস কলকাতায় এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।