নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বা দুটি নয়, বরং সমস্ত বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে কমিশন জানিয়েছে, এই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে একটি গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করার এই সিদ্ধান্ত বাংলায় অন্তত সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতার একাধিক বুথ থেকে মারাত্মক সব অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছিল। কোথাও ইভিএমের বোতামে ব্ল্যাকটেপ লাগানো, কোথাও বা আতর মাখিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার মতো অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত নিজে এলাকায় গিয়ে স্ক্রুটিনি করেন। তাঁর পাঠানো রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা জেনারেল অবজার্ভাররা সিসিটিভি ফুটেজ সঠিকভাবে পরীক্ষা করেননি। এমনকি রিটার্নিং অফিসারের জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজের চিপ অনেক ক্ষেত্রে ফাঁকা ছিল, আবার কোথাও বিহারের কোনও বুথের রেকর্ডিং মিলেছে। অন্তত ৩৪টি বুথের ভিডিও ফুটেজ হয় মেলেনি অথবা বিকৃত করা হয়েছে। কোথাও আবার ইভিএম কাউন্টারে একাধিক ভোটারকে একসঙ্গে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। কমিশনের মতে, ওই কেন্দ্রের ২১ শতাংশ বুথ ও ২২ শতাংশের বেশি ভোটার সরাসরি প্রভাবিত হওয়ায় পুরো ভোট বাতিল করা ছাড়া উপায় ছিল না।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান জানিয়েছেন, আইন আইনের পথেই চলবে। অন্যদিকে, পুনর্নির্বাচনের নির্দেশের দিনই ফলতার হাসিমগরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল চাকদার ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসরাফিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২১ মে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ফলতায় আবার নতুন করে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।