নিউজ ডেস্ক: টলিউডের রূপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ রুক্মিনী মল্লিক (কোয়েল)— কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলা জল্পনাই অবশেষে সত্যি হল। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন তিনি। গত ৬ এপ্রিল শপথ নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় কোয়েলের এই ইস্তফায় সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯-এ, যা আগে ছিল ১৩।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, শপথ নেওয়ার পর একদিনও রাজ্যসভার কক্ষে বসেননি বা কোনও অধিবেশনে যোগ দেননি কোয়েল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, গত জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে রাজ্যসভা সচিবালয়ে ইমেল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সশরীরে উপস্থিত না হওয়ায় তা গৃহীত হয়নি। সেই মতো এদিন সংসদ ভবনে গিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণানের হাতে ইংরেজিতে লেখা চিঠি তুলে দিয়ে ইস্তফা দেন অভিনেত্রী। এর পরেই তিনি সরাসরি দেখা করতে যান পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা, কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোয়। এই সাক্ষাতের পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে— তবে কি সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকদের পথ অনুসরণ করে কোয়েল মল্লিকও এবার পদ্মশিবিরে যোগ দিতে চলেছেন?
কোয়েলের ইস্তফার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘কোয়েল ভাল শিল্পী ছিলেন। ও অনেকদিন আগেই ইমেল করেছিল সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এদিন সশরীরে গিয়ে ইস্তফা দিল। শুনলাম বিজেপি নেতার সঙ্গে বৈঠকও করেছে।’’ এর পরেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, ইডি, সিবিআই এবং পুলিশের চাপের কাছে অনেকেই আত্মসমর্পণ করছেন। দলত্যাগীদের নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘যাঁদের যাওয়ার, তাঁরা একুশে জুলাইয়ের আগেই লোটা-কম্বল নিয়ে চলে যান। তৃণমূলকে কলঙ্কিত করবেন না। আমি আবার নতুন করে লড়াই শুরু করব। ২০২৬ সালের ২১ জুলাই থেকে নতুন করে পথচলা শুরু হবে।’’ কেন্দ্র সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি কেন্দ্রের ওপর ভর করে চলছে। দিল্লি টলমল হলে, এখানেও ঢলমল হবে।’’
অন্য দিকে, কোয়েলের দলত্যাগ নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কোয়েলও তৃণমূল ছাড়লেন…! তৃণমূল নির্মূল, আমি এটুকু বলতে পারি।’’ পাশাপাশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের চার জন রাজ্যসভা সাংসদ পদ ছেড়েছেন এবং আকাশে-বাতাসে আরও অনেক নাম শোনা যাচ্ছে।
ঘটনাচক্রে, কোয়েল মল্লিক যেদিন সাংসদ পদ ছাড়লেন, সেদিনই কালীঘাটে আরও একটি বড় ধাক্কা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের মহাকরণ অভিযানে গুলি চালনার ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে একসময় প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। সেই মণীশবাবু এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘‘আমি রাজনীতির সঙ্গে এখন যুক্ত নেই। আর তৃণমূলের সঙ্গেও কোনও পদ বা অন্য কিছুতে থাকতে চাই না। তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জানিয়ে দেব।’’ একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একজন অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক।’’ এক দিনে দুই হেভিওয়েটের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে বেশ ব্যাকফুটে ঘাসফুল শিবির।