নিউজ ডেস্ক: বাঁকুড়া জেলার দীর্ঘদিনের অবহেলিত দুই গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের জট অবশেষে কাটতে চলেছে। থমকে থাকা বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর এবং ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হল। বুধবার বিকেলে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন, ভূমি ও বনদফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে রেলের আদ্রা ডিভিশনের পদস্থ কর্তারা এই যৌথ বৈঠক করেন। রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি ও পরিবেশ সংক্রান্ত যে সমস্ত আইনি ও ভৌগোলিক বাধা রয়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে জেলা প্রশাসনের তরফে রেলকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রেল ও জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বাঁকুড়া জেলায় রেলের পক্ষ থেকে নতুন ১১টি জায়গায় লেভেল ক্রসিং তুলে দিয়ে আধুনিক আন্ডারপাস বা সাবওয়ে তৈরি করা হবে। এর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) চেয়েছে রেল। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জনস্বার্থ ও যানচলাচলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত এই ছাড়পত্র রেলের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বেলিয়াতোড়-বড়জোড়ার জঙ্গলে পরিবেশের ভারসাম্য ও হাতির করিডর অক্ষুণ্ণ রেখেই এই রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখার বেলিয়াতোড় স্টেশন থেকে জঙ্গল ঘেঁষে বড়জোড়া হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন পাতার কথা ছিল। তবে প্রস্তাবিত বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর রেলপথের ৩৫ কিলোমিটার পথের সিংহভাগই বনদফতরের অধীনস্থ এলাকা। দলমা থেকে আসা হাতির দল এই রুট ব্যবহার করে বড়জোড়ার সাহারজোড়া ও সংলগ্ন জঙ্গলে যাতায়াত করে। বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার স্বার্থে বনদফতরের বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই মন্ত্রকের লাভ ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে, জঙ্গল এড়িয়ে বেলিয়াতোড় থেকে পখন্না হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত বিকল্প রুটে রেললাইন পাতার একটি প্রস্তাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দামোদর নদের ওপর একটি নতুন রেল সেতু নির্মাণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই এই রেলপথের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে।
অন্য দিকে, ২০০৭ সালে ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছিল। এই স্বপ্নের প্রকল্পের জন্য মোট ৭৭০ একর জমির প্রয়োজন হলেও, ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর পর কেন্দ্রে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা তৎকালীন সরকারের আর্থিক বরাদ্দ না থাকা এবং রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের উদাসীনতার কারণে প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ থমকে যায়। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন দীর্ঘ সময় ধরে বিশ বাঁও জলে পড়েছিল।
বর্তমান প্রশাসনিক তৎপরতায় এই প্রকল্পের কাজও অদূর ভবিষ্যতে শুরু হতে চলেছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এলাকাটি ফের সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। রেলের তরফে বাকি জমির ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হলে, প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে অধিগৃহীত জমিতে কোনও জবরদখল রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে দ্রুত জমি রেলের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই দুই লাইনের পাশাপাশি খানা-বোঁয়াইচণ্ডী-সহ বাঁকুড়া দামোদর রেলওয়ে (BDR) ও পূর্ব রেলের মধ্যে সংযোগকারী অন্যান্য অসম্পূর্ণ প্রকল্পের কাজও দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন জেলার বাসিন্দারা।