নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার বিমানবন্দর লাগোয়া নারায়ণপুর সুপারিবাগান এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দুর্ধর্ষ দুষ্কৃতী ‘কানা শামিম’ এবং তাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাড়ির দালাল মহম্মদ শাহেনশাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠাল আদালত। রবিবার দুই অভিযুক্তকেই বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। ঘটনার মূল শিকড়ে পৌঁছতে এবং এই বিস্ফোরণের পেছনে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মহম্মদ শামিমের মূল বাড়ি কামারহাটি এলাকায়। অপরাধ জগতে সে ‘কানা শামিম’ নামেই পরিচিত। ২০০১ সাল থেকে নিজেদের গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে সে এলাকাছাড়া ছিল। এরপরই সে জমি ও বাড়ির দালাল মহম্মদ শাহেনশার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিমানবন্দর সংলগ্ন নারায়ণপুরের সুপারিবাগান এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। চলতি সপ্তাহেই ওই ভাড়া বাড়িতে কানা শামিমের পাকাপাকিভাবে থাকার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে গত শুক্রবার সকালে বাড়িটি পরিষ্কার করা হয়। এরপর রাতে কানা শামিম তার দুই ঘনিষ্ঠ তরুণকে দিয়ে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাঠায় ওই বাড়িতে রাখার জন্য। দালাল শাহেনশার পরিচিত ওই দুই তরুণ ব্যাগটি ঘরে রেখে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বোমার তীব্রতায় ঘরের দেওয়ালের চাঙড় ভেঙে পাশের বাড়ির এক বাসিন্দা গুরুতর জখম হন।
ঘটনার গুরত্ব বুঝে শনিবার সকালেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, সিআইডি (CID), রাজ্য এসটিএফ (Bengal STF) এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-র প্রতিনিধি দল। সিআইডির বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা সেখান থেকে আরও দুটি তাজা বোমা উদ্ধার করেন এবং বেশ কিছু রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেন। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে চম্পট দিলেও, শনিবার সন্ধ্যায় সোদপুর এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত কানা শামিমকে পাকড়াও করে পুলিশ। তাকে জেরার পর রবিবার ভোররাতে এলাকা থেকেই গ্রেফতার করা হয় বাড়ির দালাল শাহেনশাকে।
আইন অনুযায়ী, কোনো নতুন ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের লিখিত ছাড়পত্র (Tenant Verification) বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভাড়া নেওয়া বাড়িতে ওই ব্যাগে খাবার আছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে তার মধ্যে শক্তিশালী বোমাই পাঠিয়েছিল শামিম। কিন্তু কী উদ্দেশ্যে এয়ারপোর্টের মতো স্পর্শকাতর এলাকার কাছে এই বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বোমা মজুত করা হচ্ছিল, তা নিয়েই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এই গোপন ছকের কথা দালালের জানা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বোমাগুলি কোথায় তৈরি হয়েছিল এবং বোমায় কী ধরনের মারাত্মক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ব্যালাস্টিক ও ফরেনসিক রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।