নিউজ ডেস্ক: তিলোত্তমার পাঁচ নামী সরকারি মেডিকেল কলেজের অন্যতম। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও গুরুত্ব পাওয়ার দিক থেকে বরাবরই যেন ব্রাত্য পার্ক সার্কাসের ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। শতবর্ষ পার করে ফেলা কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাকেন্দ্রে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থাকলেও আজও কোনো মর্গ বা শবদেহ ব্যবচ্ছেদাগার নেই! শুধু তাই নয়, হাসপাতালের একাধিক স্তরে রয়েছে চরম পরিকাঠামোগত খামতি। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা এই ক্ষোভ ও বেহাল দশার কথা এবার লিখিতভাবে স্বীকার করে নিলেন খোদ হাসপাতালের কার্যনির্বাহী অধ্যক্ষ ডাঃ অর্ঘ মৈত্র। সরাসরি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়ে হাসপাতালের এই কঙ্কালসার চেহারার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুলাই ন্যাশনালের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি অর্থাৎ ‘কলেজ কাউন্সিল’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে একগুচ্ছ জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভিত্তিতেই গত ১৭ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠান অধ্যক্ষ। চিঠির মূল বিষয়বস্তুই ছিল— ন্যাশনাল মেডিকেলের অস্তিত্ব টিঁকিয়ে রাখতে এই মুহূর্তে আশু কী কী প্রয়োজন।
চিঠিতে অধ্যক্ষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দিন দিন হাসপাতালে রোগীর চাপ মারাত্মকভাবে বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে পরিকাঠামো রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে হাসপাতালের আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করে এর সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। সেই সম্প্রসারিত অংশে নতুন বহুতল ভবন তৈরি করে সেখানে নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, কার্ডিওলজি, গ্যাসট্রোএনটেরোলজি এবং রেডিওথেরাপির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপার স্পেশালিটি বিভাগগুলি পুরোদমে চালু করা উচিত। একই সঙ্গে ওই নতুন প্রস্তাবিত ভবনের নাম আরএসএস (RSS) প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলীরাম হেডগেওয়ারের নামে করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সংকটের যে খতিয়ান দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, সর্বভারতীয় স্তরে চিকিৎসাবিদ্যার নিয়ামক সংস্থা ‘ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন’ (NMC)-এর নির্দেশিকা বা গাইডলাইন অনুযায়ী হাসপাতালের কোনো বিভাগেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। বহু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসকের সংখ্যা যা হওয়া উচিত, বাস্তবে রয়েছে তার অর্ধেকেরও কম! শুধু ডাক্তার নয়, নার্স, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষী— সমস্ত ক্ষেত্রেই চরম লোকবলের অভাব চলছে। যার সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এবং এখানকার ডাক্তারি ছাত্র-ছাত্রীদের।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এখানে অ্যানাটমি বিভাগের একতলায় মর্গ তৈরি করার মতো উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত তা গড়ে তোলা যায়নি। ফলে ফরেনসিক বিভাগ থাকলেও মর্গহীন অবস্থায় ধুঁকছে শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠান। এর পাশাপাশি মূল কলেজ ভবন এবং হাসপাতালের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করার জন্য একটি ‘aerial pass’ বা ওভারব্রিজ তৈরির দাবিও তোলা হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের স্বার্থে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কার্যনির্বাহী অধ্যক্ষ।