নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে এবং সামগ্রিক পুলিশি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তোলার বড়সড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জঙ্গি দমন ও গুন্ডাদমন রুখতে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, প্রথম দফাতেই কলকাতা পুলিশ এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে কেন্দ্রের স্বপ্নের ‘স্মার্ট সিটি পুলিশিং’ (Smart City Policing) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে রাজ্যের বাকি জেলাগুলিকেও এই আধুনিক পুলিশিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
রবিবার সকালে আলিপুরের ‘সৌজন্য’ সরকারি আবাসে রাজ্যের শীর্ষ স্তরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি এনআইএ (NIA), বিএসএফ (BSF), সিবিআই (CBI) এবং সিআরপিএফ (CRPF)-এর শীর্ষ আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গে যেকোনো ধরণের নাশকতামূলক কার্যকলাপ বা জঙ্গিপনা রুখতে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সকে (STF) মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (ATS) ধাঁচে ঢেলে সাজানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, এসটিএফ-এর অধীনে তৈরি করা হবে এক বিশেষ ‘সাইবার ইন্টেলিজেন্স মনিটরিং ডির্যাডিকালাইজেশন ডিভিশন’। অফিসারদের হাতে আসবে আধুনিকতম বিদেশি পিস্তল এবং লাইট ওয়েট বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। এই বিশেষ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর সরাসরি সহযোগিতা নেওয়া হবে। এছাড়া, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্য থেকে কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে না পাঠানোর যে অভিযোগ ছিল, তা শুধরে বিগত ১৫ বছরের স্টেট ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (SCRB) সমস্ত রিপোর্ট নিয়মিত কেন্দ্রে পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী এই ‘স্মার্ট সিটি পুলিশিং’? অভিজ্ঞ পুলিশকর্তারা জানাচ্ছেন, অপরাধ দমনে সাধারণ নজরদারির বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগই হলো ‘স্মার্ট পুলিশিং’। এর অধীনে শহরে একটি কেন্দ্রীয় ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে। শহরজুড়ে বসবে অটোমেটেড নাম্বার প্লেট রেকগনিশন (ANPR) ক্যামেরা এবং এআই-চালিত রিয়েল-টাইম ভিডিয়ো অ্যানালিটিক্স। সাইবার অপরাধ রুখতে ‘১৯৩০’ হেল্পলাইন নম্বরের বহুল প্রচারের পাশাপাশি পুরানো সমস্ত স্পর্শকাতর অঞ্চলের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাহায্যে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।