নিউজ ডেস্ক: গত ১৮ জুলাই থেকে তারকেশ্বরে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক শ্রাবণী মেলা। রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এবং মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার তারকেশ্বর মন্দিরে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ওপর আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। শুধু তাই নয়, এ বছর শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরজুড়ে চোখে পড়ছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত গোটা সড়ককে সাজিয়ে তোলা হয়েছে চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী রঙিন আলোয়। আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারকেশ্বর মন্দিরের বিখ্যাত দুধপুকুরে ভক্তদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে আকর্ষণীয় ‘লেজার শো’ (Laser Show)। এছাড়া মন্দির প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকার দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শিব পুরাণ এবং তারকেশ্বর মন্দির সৃষ্টির পৌরাণিক ইতিহাস। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের মেলা সম্পূর্ণ নতুন সাজে ধরা দিয়েছে।
শৈবতীর্থ তারকেশ্বরে প্রতি বছর শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক লক্ষ ভক্তের ঢল নামে। সরকার পরিবর্তনের পর এই ঐতিহাসিক মেলাকে ইতোমধ্যে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর রোডে প্রতি কয়েক কিলোমিটার অন্তর গড়ে তোলা হয়েছে সুসজ্জিত সেবাকেন্দ্র। গরমের মধ্যে পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে ঠান্ডা ও গরম পানীয় জলের একাধিক বুথ। এছাড়া বাজিতপুর চৌমাথা থেকে মন্দির পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সুদৃঢ় ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ব্যাপকভাবে চালানো হয়েছে শ্রাবণী মেলার প্রচার। প্রশাসনিকভাবেও নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সজাগ নজরদারি।
তবে উৎসবের এই জমকালো আবহ সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মুখে ফুটে উঠেছে কিছুটা হতাশার ছাপ। রাস্তা সম্প্রসারণ ও যানজট মুক্ত রাখতে এবার রাস্তার দুধারে বহু বছরের চেনা অস্থায়ী দোকান বসতে দেওয়া হয়নি, ফলে রুটিরুজিতে ধাক্কা খেয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি, প্রতি বছর মেলা উপলক্ষে পুলিশ দপ্তরের অধীনে যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বা ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হতো, এবার সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তারকেশ্বরের স্থানীয় যুবক-যুবতীরা। এছাড়া, মন্দির সংলগ্ন রাস্তা ও দুধপুকুর আলো ঝলমলে হলেও মূল তারকেশ্বর মন্দিরটি কিছুটা অবহেলিত রয়ে গিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয়দের মতে, মন্দিরের চূড়ার বেশ কিছুটা অংশের রং খসে পড়ছে এবং জন্ম নিয়েছে আগাছা। মেলার শুভ সূচনার আগেই মূল মন্দিরটি নতুন করে রং ও সংস্কার করলে তা আরও দৃষ্টিনন্দন হতো বলে দাবি করেছেন এলাকার ভক্তেরা।