নিউজ ডেস্ক: রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের তথ্য এবার নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করল রাজ্য কৃষি দপ্তর। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই এই ব্যাপক যাচাই প্রক্রিয়া বা ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে মূল নজর দেওয়া হচ্ছে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পেশাগত ও আর্থিক খতিয়ানের ওপর।
তদন্তকারী আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন, সুবিধা প্রাপকদের মধ্যে কেউ কোনো সরকারি বা সরকারি আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী কি না। পাশাপাশি, আবেদনকারী কৃষক আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন কি না, অথবা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে কি না— তা-ও বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। যেসব কৃষকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁরা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কিংবা সিএএ (CAA)-র অধীনে পুনরায় আবেদন জানিয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে প্রশাসন।
যদিও কৃষি দপ্তরের তরফে জারি করা সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি যে, সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, আয়করদাতা বা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকরা আর ‘কৃষকবন্ধু’র টাকা পাবেন না। তবে সমস্ত নথি ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই সংশ্লিষ্ট কৃষককে সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই বিষয়ে ব্লক স্তরের সহকারী কৃষি আধিকারিক (Assistant Agricultural Officer) অথবা এক্সটেনশন অফিসারদের হাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।
পূর্বে এ রাজ্যে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষকের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৯০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের নতুন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, প্রকল্পের স্বচ্ছতা আনতে ‘কৃষকবন্ধু’র সমস্ত সুবিধাভোগীর তথ্য পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। উল্লেখ্য, রাজ্য বাজেটে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, যোগ্য কৃষকদের বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম কিষাণ’ (PM-KISAN) প্রকল্পের বছরে ৬ হাজার টাকার অতিরিক্ত অনুদান হিসেবে কাজ করবে।
পূর্বতন সরকারের আমলে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কোনো কঠোর বাছাই পদ্ধতি না থাকলেও, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে সরকারি চাকরি, পেনশন বা আয়করের মতো একাধিক কঠোর মাপকাঠি বহাল ছিল। আর সেই কারণেই বাংলায় পিএম কিষাণের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল অনেক কম (প্রায় ৪৫.৫ লক্ষ)। এবার যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের তথ্য কেন্দ্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে। আর এই যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি আধার কার্ড, ভোটার আইডি, জমির খতিয়ান এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র জমা দিতে হচ্ছে।