নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে রেশনের খাদ্যশস্য বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতে এবং কারচুপি রুখতে বড়সড় পদক্ষেপ করল খাদ্যদপ্তর। এবার থেকে ই-পস (e-POS) যন্ত্রের মাধ্যমে রেশনের চাল-গম বা সামগ্রী দেওয়ার সময় গ্রাহকের চোখের মণি বা ‘আইরিস’ (Iris) স্ক্যান করে আধার নম্বর যাচাই করার ওপর কড়া নির্দেশ দিল দপ্তর। এই প্রথম ধাপের প্রযুক্তিগত পদ্ধতি কোনো কারণে ব্যর্থ বা ব্যর্থ হলে, তবেই বিকল্প হিসেবে বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ বা নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সম্প্রতি রাজ্য খাদ্যদপ্তরের সচিবের তরফে জেলা খাদ্য নিয়ামক এবং বিধিবদ্ধ রেশনিং এলাকার যুগ্ম অধিকর্তাদের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক গ্রাহক রেশন পাচ্ছেন এবং বিগত দুই-তিন মাসে এই সংখ্যাটা আরও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলে কারচুপি এড়াতে আধার যাচাইয়ের প্রথম অগ্রাধিকার বা ফার্স্ট চয়েস হিসেবে আইরিস স্ক্যানকেই প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। যেসব রেশন ডিলার ইচ্ছাকৃতভাবে আইরিস স্ক্যানার ব্যবহার করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। খাদ্যদপ্তরের পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বর্তমানে ৯৫ শতাংশ আধার যাচাই আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হয়, আর আইরিস স্ক্যান হয় মাত্র ৩ শতাংশ। যদিও দপ্তরের দাবি, রাজ্যে প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ রেশন গ্রাহকের সঠিক আধার যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে খাদ্যদপ্তরের এই বাধ্যবাধকতায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রেশন ডিলারদের একাধিক সংগঠন। ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশন’-এর তরফে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে খাদ্যদপ্তরের সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, “আইরিস স্ক্যান পদ্ধতিতে কাজ করতে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি সময় নষ্ট হয়। যার ফলে রেশনের দোকানে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ গ্রাহকদেরই। বহু প্রবীণ মানুষের চোখে ছানি বা অন্যান্য সমস্যা থাকায় স্ক্যানার কাজ করতে চায় না।”
উল্লেখ্য, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে বয়সের ভারে হাতের আঙুলের ছাপ মেলাতে সমস্যা হওয়ার কারণেই প্রথম দিকে ই-পস যন্ত্রে আইরিস স্ক্যানারের অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছিল। কেন্দ্র সরকারের নির্দেশিকায় রেশনে মুখের ছবি (Face Recognition) স্ক্যান করে আধার যাচাইয়ের বিকল্প পদ্ধতির কথা বলা হলেও, বাংলায় তা এখনও বাস্তবায়িত করা যায়নি।