নিউজ ডেস্ক: কসবা এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল ডেটিং অ্যাপের আড়ালে বড়সড় প্রতারণা চক্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণীদের কণ্ঠস্বর নকল করে যুবকদের ফাঁদে ফেলত জালিয়াতরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে হানা দিয়ে এই চক্রের চার পাণ্ডাকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন এবং আর্থিক লেনদেনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি। প্রতারকদের ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগে কসবা এলাকাতেই ডেটিং অ্যাপের ফাঁদে পড়ে এক যুবকের খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর লালবাজারের বিশেষ অভিযানে বহু ভুয়ো ডেটিং সংস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও, কসবা, তিলজলা বা যাদবপুরের মতো এলাকায় ফের নতুন করে ঘর ভাড়া নিয়ে অফিস খুলে বসেছে প্রতারকরা। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মূলত যুবকদের টার্গেট করা হত। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে কেউ যোগাযোগ করলেই তাঁর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশনের নামে মোটা টাকা আদায় করা শুরু করত প্রতারকরা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রের সবথেকে ভয়ঙ্কর দিক হল প্রযুক্তির অপব্যবহার। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে জালিয়াতরা ‘এআই’ প্রযুক্তির সাহায্য নিত। পুরুষ কর্মীরাই তরুণীদের মায়াবী কণ্ঠস্বরে কথা বলে অপর প্রান্তের যুবককে প্রলুব্ধ করত। দেখা করার টোপ দিয়ে বা ভিডিও কলে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত। মধ্য কলকাতার এক যুবক এই ফাঁদে পড়ে লক্ষাধিক টাকা হারানোর পর লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামেন গোয়েন্দারা।
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, প্রতারকরা মূলত ভাড়া করা বা ‘রেন্টেড’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। কসবা লাগোয়া বিভিন্ন এটিএম থেকে দ্রুত টাকা তুলে নিয়ে তারা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করত। ধৃত চার জনকে জেরা করে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং আর কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। নির্বাচনের মুখে মহানগরে এমন অত্যাধুনিক জালিয়াতি চক্রের হদিস মেলায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।