নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। ৪ মে ফলাফল ঘোষণা। আর এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে যাতে কলকাতা বা শহরতলির কোথাও অশান্তি না ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য কার্যত ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ ডোজ় দিতে শুরু করেছে পুলিশ-প্রশাসন। স্ট্রংরুমগুলো এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা দুর্ভেদ্য দুর্গ। তবে কমিশনের আসল চ্যালেঞ্জ ফল ঘোষণার পরবর্তী সময়টুকু সামলানো।
লালবাজার সূত্রের খবর, প্রতিটি থানা এলাকায় দাগি অপরাধী ও সম্ভাব্য গোলমালকারীদের তালিকা তৈরি করে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। ‘বাহুবলী’ হিসেবে পরিচিত নেতাদের কাছে কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে— অশান্তি করলেই শ্রীঘর। পুলিশের এই মারমুখী মেজাজ দেখে বেলেঘাটা থেকে বেহালা, ভাঙড় থেকে বন্দর এলাকার দুষ্কৃতীরা কার্যত নিজেদের ‘হাউজ় অ্যারেস্ট’ করে ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যারা আগে পুলিশকে চমকাত, তারাই এখন আতঙ্কে ঘরের চৌকাঠ পেরোচ্ছে না।
বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আগে থেকেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পর্ণশ্রী এলাকায় এক তৃণমূল নেতাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের খুঁজতে শনিবার দিনভর তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। কসবার কুখ্যাত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারেরও খোঁজ চলছে। অন্যদিকে, কলকাতা পোর্ট এলাকায় পুলিশি নজরদারির চাপে গত ২৯ এপ্রিল একটি ইটও পড়েনি। ভাঙড়, যা একসময় বোমাবাজির সমার্থক ছিল, সেখানেও এখন ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চলছে।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর যে ভয়াবহ হিংসার ছবি দেখা গিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। প্রতিটি ডিভিশনের অফিসারদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাহিনীর উর্দিতে তিনি কোনও দাগ লাগতে দেবেন না। তাঁর সাফ নির্দেশ— ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন বোমাবাজি বা গুলি না চলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এখনও হিংসার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, লালবাজারের বর্তমান প্রস্তুতি বলছে, ‘তিরে এসে তরী ডোবাতে’ নারাজ প্রশাসন।