নিউজ ডেস্ক: উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ দেড় বছরের টানাপোড়েন মেটানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ২০১৬ সালে বিজ্ঞাপিত ১৪,৩৩৯টি পদের মধ্যে বাকি থাকা ১২৪১টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত।
রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, শূন্যপদের ক্যাটিগরি-ভিত্তিক তালিকা সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য স্কুলশিক্ষা দপ্তর ও স্কুলশিক্ষা কমিশনারেটের দু’জন করে আধিকারিককে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান আধিকারিক বর্তমানে নির্বাচনী ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় ৫ মে-র পর তিনি ছাড়া পাবেন। এরপর আগামী ৭ ও ৮ মে কমিটির সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পরেই ১২৪১ জন প্রার্থীর তালিকা ও ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) অফিসে পাঠাতে পারবে শিক্ষা দপ্তর।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ অগস্ট বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে মোট ১৪,০৫২ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ১২,৭২৩ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০২৫-এর ১ অগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হলেও ১২৪১ জনের কাউন্সিলিং এখনও শুরু হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ‘আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চ’ হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে।
গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে ২০ নভেম্বরের মধ্যে এই ১২৪১ জনকে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব, স্কুলশিক্ষা কমিশনার এবং এসএসসি-র চেয়ারপার্সন ও সচিবকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি ৩০ মার্চের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে রুল জারি করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চ। সেই আইনি চাপেই এবার তৎপরতা বাড়াল রাজ্য প্রশাসন।