নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে বারুদের স্তূপে খাস থানা চত্বর! শনিবার দুপুরে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া থানা এলাকা। থানার পেছনের মালখানায় (Store Room) মজুত করে রাখা বোমায় বিস্ফোরণ ঘটায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশেপাশের বাড়িগুলি থরথর করে কেঁপে ওঠে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা, যার জেরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বোমাবাজির আতঙ্ক ও বাস্তবের অভিঘাত: স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এদিন দুপুরে হঠাৎই বজ্রপাতের মতো শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। সামনেই নির্বাচন, তাই প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এলাকায় বড়সড় কোনও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। প্রাণভয়ে মানুষজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে যখন জানা যায় বিস্ফোরণটি খোদ থানার মালখানার ভেতরে হয়েছে, তখন কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ কমেনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর লোহার স্প্লিন্টার ছিটকে এসে পড়েছে তাঁদের বাড়ির ছাদে ও উঠোনে। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন অনেকে।
উত্তপ্ত রাজনীতি ও প্রশাসনিক তদন্ত: বিস্ফোরণের খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে বম্ব স্কোয়াডের প্রতিনিধিরা এসে মালখানা পরিদর্শন করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এই প্রসঙ্গে বলেন, “প্রবল গরমে থানায় মজুত করা বোমা কোনও কারণে ফেটে গিয়েছে।” তবে পুলিশের মতো নিরাপদ জায়গায় কেন দীর্ঘক্ষণ এভাবে সক্রিয় বোমা মজুত রাখা হয়েছিল এবং নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
উত্তরে খোঁজে এলাকাবাসী: থানা চত্বরের মতো সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটল, প্রশাসনের কাছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্বাচনের মুখে এমন ঘটনা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কী ধরনের বিস্ফোরক সেখানে ছিল এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।