নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতা এখন কার্যত ‘মিনি ইনফ্লুয়েন্সর’। রবিবার বিকেলের পর থেকে বিক্রম কুমার সাউ-এর জীবনে যা ঘটছে, তাকে এক কথায় বলা যায় ‘মোদীর জাদু’। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামের সভা শেষে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে যাওয়ার পথে কলেজ মোড়ে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে বিক্রমের দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ১০ টাকার মুড়ি মাখাই এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনে যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই দানা বেঁধেছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বীরভূমের মুরারইয়ের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিকে সরাসরি ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “১০ টাকা ওঁর পকেটে থাকে কখনও? নির্বাচনের সময় কত নাটক! নির্বাচনের সময় কখনও বলেন আমি চাওয়ালা, কখনও ১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। সেটাও নিজেদের তৈরি করা। নয়তো দোকানে আগে থেকে ক্যামেরা ফিট করা ছিল কী ভাবে?” মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘নাটক’ তত্ত্ব নিয়ে যখন রাজনৈতিক অন্দরে তপ্ত আলোচনা, তখন ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবার বাসিন্দা বিক্রম সামলাচ্ছেন ‘খ্যাতির বিড়ম্বনা’।
সোমবার সকাল থেকেই বিক্রমকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঝালমুড়ি মাখার ফাঁকে সাংবাদিকদের ভিড়, ভ্লগারদের ক্যামেরা আর উৎসাহী জনতার সেলফি সামলাতে সামলাতে কালঘাম ছুটছে তাঁর। বিক্রম জানিয়েছেন, ঝালমুড়ি মাখার সময় তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন পেঁয়াজ দেবেন কি না, মোদীজি সপাটে উত্তর দেন— “হ্যাঁ পেঁয়াজ খাই। শুধু ‘দিমাগ’ (মাথা) খাই না!” প্রধানমন্ত্রীর এই সরস মন্তব্য এখন ঝাড়গ্রামের প্রতিটি মোড়ে ঘুরছে। বিক্রমের দোকানের দৈনিক বিক্রি আগে ছিল ৮০০ থেকে হাজার টাকার আশেপাশে, যা এখন রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, বিক্রমের নম্বর ব্যস্ত থাকায় পাশের মাংসের দোকানের মালিকের ফোনেও অনবরত ফোন আসছে বিক্রমের খোঁজ নিতে।
বিক্রমের আদি বাড়ি বিহারের গোয়া হলেও দীর্ঘ বছর ধরে ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবায় বাবা-মা, তিন বোন, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে তাঁর বসবাস। অভাবের সংসারে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন যেন লটারি পাওয়ার মতো। তবে রাজনীতির লড়াইতে এই ঝালমুড়ি ‘অম্বল’ হয়ে দাঁড়াবে নাকি ‘সুস্বাদু’ ভোট বৈতরণী পার করবে, তা ফলপ্রকাশের আগে বলা কঠিন। আপাতত ঝাড়গ্রামের এই বিক্রমই এখন ঝোলে-ঝালে-অম্বলে বাংলার খবরের শিরোনামে।