নিউজ ডেস্ক: বিয়ের গয়না বন্ধক রেখে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে গিয়েছিলেন দম্পতি। কিন্তু পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে এল থলের বিড়াল। খাঁটি সোনার বদলে গয়নাগুলি আসলে পিতলের ওপর পালিশ করা! বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার সোনাখালি এলাকার একটি সমবায় ব্যাঙ্কে জালিয়াতির এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমবায় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের বাড়ি দাসপুর থানারই হরেকৃষ্ণপুরে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সোনাখালি শাখায় ওই দম্পতি ৬৮ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না জমা দিয়ে ঋণের আবেদন জানান। নিয়মমাফিক ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সেই গয়নাগুলি পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই সমবায়ের ডিরেক্টর তথা ঘাটাল মহকুমার ইনচার্জ কৌশিক কুলভী জানান, গয়নাগুলি যাচাই করতেই আধিকারিকদের চক্ষুচড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়, যে গয়নাগুলিকে খাঁটি সোনা বলে দাবি করা হয়েছিল, তার সবটাই নকল। জালিয়াতির গন্ধ পেয়েই তৎক্ষণাৎ দাসপুর থানায় খবর দেওয়া হয় এবং রাতেই পুলিশ তাঁদের আটক করে।
জেরার মুখে পেশায় স্বর্ণশিল্পী ওই যুবক দাবি করেছেন, গয়নাগুলি যে নকল তা তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, বিয়ের সময় তাঁর শ্বশুরমশাই তাঁর স্ত্রীকে এই গয়নাগুলি উপহার দিয়েছিলেন। পারিবারিক প্রয়োজনে টাকার দরকার হওয়ায় তিনি স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে গয়না বন্ধক রাখতে এসেছিলেন। প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকলে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ব্যাঙ্কে আসতেন না বলেও দাবি করেন ওই যুবক। তবে একজন পেশাদার স্বর্ণশিল্পী হয়েও তিনি গয়নার সত্যতা যাচাই করতে পারলেন না— যুবকের এই যুক্তি মানতে নারাজ তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে।
কৌশিকবাবুর দাবি, সাম্প্রতিককালে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে নকল সোনা দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার এক বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিপূর্বেও একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে গয়না বন্ধক রাখতে গিয়ে ভুয়ো সোনা ধরা পড়েছে। বারংবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ও সোনা পরীক্ষা করার পদ্ধতি আরও কঠোর করা হয়েছে। ধৃত দম্পতির বয়ান যাচাই করতে এবং এই জালিয়াতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে ওই বধূর বাপের বাড়ির সদস্যদেরও তলব করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।