নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বার যেমন ভোটের দফা কমানো হয়েছে, তেমনই নজিরবিহীনভাবে কমিয়ে দেওয়া হলো ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যাও। কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাত্র ৮৭টি গণনা কেন্দ্রে। শুক্রবার এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৯০টি। গত ২০২১ সালের নির্বাচনে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১০৮। তবে এ বার প্রশাসনিক সক্রিয়তা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক বিন্যাসে আসন সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে থাকা উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি আসনের ভোট গণনা হবে ৮টি কেন্দ্রে। আসন সংখ্যায় এর পরেই থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১২টি গণনা কেন্দ্র। খাস কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গোনা হবে মাত্র ৫টি কেন্দ্রে। জেলা প্রশাসনের দক্ষতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করেই এই কেন্দ্রগুলি নির্বাচন করা হয়েছে বলে খবর।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের গণনা হবে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জলপাইগুড়ির ৭টি আসনের জন্য থাকছে ২টি কেন্দ্র। এ ছাড়াও কোচবিহারে ৫টি, দার্জিলিঙে ৩টি এবং মালদহ ও দুই দিনাজপুরে ২টি করে কেন্দ্রে ভোটগণনা চলবে। ঝাড়গ্রামের ৪টি আসনের গণনা হবে রানি ইন্দিরা দেবী সরকারি স্কুলে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও হুগলিতে ৬টি করে এবং নদীয়া, হাওড়া ও দুই মেদিনীপুরে ৪টি করে কেন্দ্রে ভাগ্য নির্ধারণ হবে। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলাতেও আসন সংখ্যার অনুপাতে গণনাকেন্দ্র কমিয়ে ৩টি করে করা হয়েছে। মূলত স্পর্শকাতর এলাকা এবং পরিকাঠামোর দিকে নজর দিয়েই এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে কমিশন।