নিউজ ডেস্ক: বৈশাখের দুপুরে আচমকাই মেঘলা আকাশ। তারপর মিনিট কুড়ির প্রলয় কাণ্ড। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাত্র ২০ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের বয়রা পঞ্চায়েতের চার-পাঁচটি গ্রাম। ঝড়ের দাপটে কোথাও গুঁড়িয়ে গিয়েছে কাঁচা বাড়ি, কোথাও আবার খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে ঘরের টিনের চাল। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে গিয়েছে বহু প্রাচীন গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাগদা ব্লকের মেহেরানি, কুরুলিয়া, মামা ভাগ্নে এবং রামনগর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো মেঘে ঢেকে যায় বাগদার আকাশ। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শুরু হয় দমকা হাওয়া। স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশের দিক থেকে এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে। ঝড়ের স্থায়িত্ব খুব বেশি না হলেও তার তীব্রতা ছিল মারাত্মক। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, আম্ফানের পর এমন বিধ্বংসী রূপ তাঁরা আগে দেখেননি। ঝড়ে গাছ পড়ে ও বাড়ি ভেঙে অন্তত দু’জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রামনগরের বাসিন্দা অরুণ হীরা অসুস্থ অবস্থায় ঘরে থাকাকালীন চালের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে আহত হন। জখমদের উদ্ধার করে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রবল ঝড়ে বনগাঁ-বয়রা রাস্তার ওপর একের পর এক গাছ ভেঙে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিজমিতেও। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল কার্যত ধুলোয় মিশে গিয়েছে। গ্রামবাসী মলয় দাসের কথায়, “দুপুরে মেঘ করে একেবারে রাতের মতো অন্ধকার নেমে এসেছিল। ঘরের চাল উড়ে জমিতে গিয়ে পড়েছে, সর্বনাশ হয়ে গেল আমাদের।” ৩ বিঘা জমির ফসল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন গীতা বিশ্বাসও।
ঝড় থামার পরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নামে ব্লক প্রশাসন ও বয়রা পঞ্চায়েত। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে পৌঁছন পঞ্চায়েত প্রধান সুষমা মণ্ডল। পঞ্চায়েত কর্মীরা ইলেকট্রিক করাত দিয়ে গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। সুষমা মণ্ডল জানান, “পুরো বিষয়টি বিডিও-কে জানানো হয়েছে। জখমদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য দ্রুত ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” কোনও প্রাণহানি না ঘটলেও সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা সীমান্ত লাগোয়া এই গ্রামগুলির কয়েকশো মানুষ।