নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটিতে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে বড়সড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। কেন অধ্যাপকদের এই বিশেষ পদের জন্য বেছে নেওয়া হল, তার কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় কমিশনের জারি করা ওই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটিই শুক্রবার সরাসরি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, অধ্যাপকদের বেতন এবং পদমর্যাদার কথা মাথায় রেখে কমিশন যদি তাঁদের অন্য কোনও দায়িত্ব দিতে চায়, তবেই তাঁরা তা পালন করতে বাধ্য থাকবেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন। এমনকি তাঁদের পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু এক জন অধ্যাপক হয়ে কেন তাঁদের প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ করতে হবে, এই প্রশ্ন তুলে এবং পদের অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অধ্যাপকদের একাংশ। গত শুনানিতেই এই নিয়ে কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ঠিক কোন যুক্তিতে এই নিয়োগ করা হল? কিন্তু শুক্রবারের শুনানিতেও কমিশন তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি।
কমিশনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রাজ্যে ৮৫ হাজারের বেশি বুথ রয়েছে এবং স্বচ্ছভাবে ভোট পরিচালনার জন্য প্রচুর সংখ্যক উচ্চপদস্থ আধিকারিক প্রয়োজন। গত নির্বাচনেও অধ্যাপকেরা এই কাজ করেছিলেন বলে যুক্তি দেয় কমিশন। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, অধ্যাপকদের বুথে পাঠানোর সপক্ষে কোনও বলিষ্ঠ কারণ কমিশন দর্শাতে পারেনি। উপরন্তু, পূর্বনির্ধারিত নিয়ম বা নোটিস মেনে এই নিয়োগ হয়নি। ফলে কমিশনের ওই নির্দেশিকা বাতিল করা হল।
আদালতের এই রায়ের পর কমিশন কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অধ্যাপকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও কাজে তাঁদের বাধ্য করা যাবে না। তবে তাঁদের বেতন ও র্যাঙ্ক অনুযায়ী নির্বাচন সংক্রান্ত অন্য কোনও উচ্চতর দায়িত্ব অর্পণ করা হলে তাঁরা তা অবশ্যই পালন করবেন। প্রথম দফার ভোটের আগে আদালতের এই রায় কমিশনের ভোটকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাকে বেশ কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।