নিউজ ডেস্ক: ‘বাতিল’ বা ডিলিটেড ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঐতিহাসিক রায় দিলেও ধোঁয়াশা যেন কিছুতেই কাটছে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর স্বস্তির আশায় আবেদনকারীরা ট্রাইব্যুনাল দপ্তরে ভিড় জমালেও মিলছে না সুরাহা। উল্টে শুক্রবার পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে আবেদনের নিষ্পত্তির পদ্ধতি বা ‘এসওপি’ (SOP) প্রকাশ্যে না আসায় প্রশাসনিক স্তরেও চূড়ান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কতজন ভোটারের আবেদন আদৌ নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই পরিসংখ্যানও মেলেনি।
সুপ্রিম নির্দেশে আশার আলো দেখে শুক্রবার সাতসকালে বহরমপুর থেকে জোকার ট্রাইব্যুনাল দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন কোয়েল ঠাকুর, অজয় পালরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত। অভিযোগ, আবেদনকারী তো দূরস্থান, এমনকি আইনজীবীদেরও ট্রাইব্যুনালের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে শেষমেশ হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। আবেদনকারীদের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট যখন সুযোগ দিয়েছে, তখন কেন তাঁদের শুনানি করা হচ্ছে না?
এদিকে, দায় ঝেড়ে ফেলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল একটি স্বতন্ত্র সত্তা, তার কার্যপদ্ধতি বা আবেদনের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিষয়ই কমিশন বা সিইও দপ্তরের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। ট্রাইব্যুনাল কত নামের নিষ্পত্তি করল, তা কমিশনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সিইও-র দাবি, ‘‘এখনও কোনও এসওপি আমাদের কাছে আসেনি। তাছাড়া তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ড্যাশবোর্ড তৈরির প্রয়োজন ছিল, যা এখনও তৈরি হয়নি।’’
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের তালিকায় প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। অথচ ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা পড়েছে ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৮টি। অর্থাৎ, মূল তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর যাঁরা আবেদন করেননি, তাঁদেরও একাংশ এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আবেদনের ফয়সালা ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি কত সময়ের মধ্যে করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গোলাম মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তবে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ীই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটের মুখে লাখ লাখ ভোটারের ভাগ্য এখন বিশ বাঁও জলে।