নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটে হওয়া ‘ভুল’ থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। অন্যের ভোটার স্লিপ ব্যবহার করে বা নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের বুথে ঢোকা রুখতে এবার নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাচ্ছে কমিশন। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘ডিলিটেড’ বা নাম বাদ যাওয়া কোনও ভোটার যদি নথিপত্র নিয়ে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেন, তবে তৎক্ষণাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেবে। কোনওভাবেই যাতে তাঁরা ভোট দিতে না পারেন, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসার ও বাহিনীর জওয়ানদের।
ভুলের সংশোধন ও কড়া নজরদারি: কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে বেশ কিছু জায়গায় নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা অন্যের স্লিপ ব্যবহার করে ইভিএম-এর বোতাম টিপে দিয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন কমিশনের কর্তারা। চেকিং-এর গাফিলতি রুখতে এবার বিএলও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেক ভোটারের নথিপত্র ও স্লিপের তথ্য ভোটার কার্ডের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। এই কাজে বিএলও-দের সরাসরি সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
ক্যামেরা পজিশন ও প্রযুক্তির ব্যবহার: প্রথম দফায় অনেক বুথেই ক্যামেরা এমন জায়গায় লাগানো ছিল যেখান থেকে ভোটারদের গতিবিধি বা বাইরের জমায়েত স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। এবার সেই ভুল শুধরে নিতে ইসিআই (ECI) নির্দেশ দিয়েছে, বুথের ক্যামেরা ঠিকমতো জায়গায় ফিট করা আছে কি না, তা খোদ ভোটকর্মীরা পরীক্ষা করবেন এবং তার রিপোর্ট কমিশনে জমা দেবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডেকে এনে ক্যামেরাগুলি এমনভাবে বসাতে হবে যাতে বুথের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতি স্পষ্ট ধরা পড়ে। বুথে যোগ দেওয়ার পর প্রিসাইডিং অফিসারদের ছবি পোস্ট করার মাধ্যমে উপস্থিতির প্রমাণও দিতে হবে।
ভোটকর্মীদের ওপর ‘প্রভাব’ রুখতে বেষ্টনী: কমিশনের কাছে খবর এসেছে যে, দ্বিতীয় দফার ভোটে খাবার বা অন্যান্য উপায়ে ভোটকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে যে, ভোটের আগের রাতে বাইরের কোনও লোক ভোটকর্মীদের জন্য খাবার নিয়ে বুথে ঢুকতে পারবেন না। এমনকি কথা বলার জন্যও কোনও বহিরাগতকে বুথের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া হবে না। এই নিরাপত্তার বিষয়টি হাতেকলমে তদারকি করবেন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।