নিউজ ডেস্ক: বয়স নব্বইয়ের কোঠা পেরিয়েছে। শরীরে জরা থাবা বসালেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ইচ্ছায় খামতি ছিল না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ‘হোম ভোটিং’ পরিষেবা চালু হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারলেন না উলুবেড়িয়া উত্তরের দুই অতি-প্রবীণ ভোটার। বিএলও বাড়ি এসে নাম লিখে নিয়ে গেলেও ভোটকর্মীরা না আসায় চরম হতাশায় দিন কাটছে ৯৩ বছরের অরুণকুমার মিত্র এবং ৯৫ বছরের গৌরীবালা বসুর।
উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার রসপুর গ্রামের বাসিন্দা অরুণবাবুর পরিবারের দাবি, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়েছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে বাড়িতে বসেই ভোট দিয়েছিলেন তিনি। এবারও বিএলও এসে অরুণবাবু ও তাঁর ৮৭ বছরের স্ত্রী বেলারানি মিত্রের নাম নথিবদ্ধ করে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযোগ, শুক্রবার এলাকায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলেও মিত্র বাড়িতে কোনও ভোটকর্মী পৌঁছাননি। একই পরিস্থিতির শিকার গৌরীবালা বসুও। শয্যাশায়ী ওই বৃদ্ধার নামও বিএলও তালিকায় তুলেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে রহস্যজনকভাবে তা বাদ যায় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা বিএলও-র দ্বারস্থ হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। এমনকি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও বিজয় দাসকে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমের পরিচয় পেয়েই ফোন কেটে দেন বলে অভিযোগ। যদিও আমতা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও ঋক গোস্বামী আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, হতাশার কারণ নেই। ‘সক্ষম’ অ্যাপের মাধ্যমে ওই প্রবীণ ভোটারদের ভোটদানের বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে নির্বাচনের প্রথম দিনেই কমিশনের এই পরিষেবায় এমন বিভ্রাট কেন, তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েই গিয়েছে গ্রামবাসীর মনে।