নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের ফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ভোট গণনা পর্ব থেকে শুরু হওয়া এই হিংসা সোমবার গভীর রাত থেকে চরম আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন রাজনৈতিক কর্মী। মৃতদের মধ্যে ২ জন তৃণমূল এবং ২ জন বিজেপি সমর্থক বলে জানা গিয়েছে। প্রাণহানির পাশাপাশি রাজ্যের কয়েকশো তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে কলকাতার বেলেঘাটা বিধানসভার নারকেলডাঙ্গা এলাকায় বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৩৮) নামে এক তৃণমূলের বুথ এজেন্টকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে, হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের মানশ্রী এলাকায় যাদব বর (৪৫) নামে এক বিজেপি সমর্থককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
হিংসার আগুন ছড়িয়েছে নিউটাউন এবং বীরভূমেও। মঙ্গলবার বিকেলে নিউটাউনের বালিগড়ি এলাকায় মধু মণ্ডল (৪৪) নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে চড়াও হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে বীরভূমের নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে আবির শেখ নামে এক আইএনটিটিইউসি (INTTUC) অঞ্চল সভাপতিকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক তৃণমূল কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিবারের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে হলেও গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।
ভোট পরবর্তী এই লাগামহীন হিংসা রুখতে জেলাগুলিতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রাণহানি ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।